কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া: সড়কে চাপ বেড়েছে সকাল ৮টার পর
রাজধানীর মিরপুরের বেগম রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড। ওই দুটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মেট্রোরেলের স্টেশন এবং সিটি করপোরেশনের পানিনিষ্কাশনের নালা নির্মাণের কাজ চলছে। এতে ওই এলাকার সড়কে ভাঙাচোরা আর খানাখন্দ রয়েছে। সংস্কারকাজের কারণে সড়কের প্রশস্ততাও কমেছে। শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড অংশে উভয় পাশের যানবাহনকে চলতে হয় একপাশ (পশ্চিম পাশ) দিয়ে।
প্রতিদিন (শুক্রবার বাদে) সকাল আটটার কিছু আগে থেকে ওই দুই বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী অংশে যানজট শুরু হয়। কখনো কখনো তা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। এর কারণ ওই সময়ে অফিসগামী লোকজন কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আজ বুধবার থেকে সরকার দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস শুরুর সময় সকাল আটটা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আজ তাই রাজধানীর ওই দুই অংশে যানজটের চাপ শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল সাতটার কিছু সময় পর থেকেই।
তবে আজ সকাল আটটার আগপর্যন্ত কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অফিসগামী মানুষের চাপ ও ভিড় খুব বেশি দেখা যায়নি। ফলে রাস্তায় তেমন যানজটও ছিল না। যাত্রীবাহী বাসের আসন ছিল ফাঁকা। বাসগুলোও যাত্রীর আশায় থেমে থেমে চলছিল। সেখানে আগের মতোই পৌনে আটটার পর ধীরে ধীরে রাস্তায় অফিসগামীদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। সাড়ে আটটা পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের লোগোর বাস–গাড়ি দেখা গেছে।
মতিঝিলে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখায় কাজ করেন কবির আহমেদ। থাকেন কাজীপাড়ায়। তিনি সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আজ প্রথম দিন। সবকিছু গুছিয়ে বের হতে সময় লেগে গেল। জানি না আটটার নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারব কি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে নিজেও রওনা হতাম। এখন নিজেই ছেলের আগে বাসা থেকে বের হয়েছি। আজ থেকে আপাতত ছেলেকে স্কুলে নেওয়ার কাজটি করবে স্ত্রী।’
সকাল পৌনে আটটা পর্যন্ত তেমন একটা ভিড় দেখা না গেলেও এরপর ধীরে ধীরে যাত্রী পরিবহনের বাস, কর্মীদের স্টাফ বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত রিকশার ভিড় বাড়তে শুরু করে। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রথমে যানজট শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই জট দীর্ঘ হয় কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। সকাল সাড়ে আটটার দিকে যানজট আরও বেড়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের কাছাকাছি চলে যায়। অফিস শুরুর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ওই সময়ে কর্মকর্তা ও কর্মীদের অফিস কক্ষে কিংবা কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার কথা।
যানজটের পাশাপাশি বাসের ভেতরে যাত্রীবোঝাই নিয়ে চলতে দেখা গেছে। বসার আসন না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। মিরপুর-১০ নম্বর থেকেই যাত্রী ভরে যাওয়ায় কোনো কোনো বাসের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
সোয়া আটটার দিকে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষার সময়ে কথা হয় আগারগাঁওয়ের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক রোকন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অফিস যেহেতু কাছে, ভেবেছিলাম সাড়ে আটটার মধ্যে পৌঁছে যাব। কিন্তু আটটায় বাসস্ট্যান্ডে এসেও কোনো বাস পাচ্ছি না।’
যানজটে আটকে থাকার কারণে অফিসগামী অনেক লোক ওই সময় কাজীপাড়া থেকে হেঁটে শেওড়াপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য শেওড়াপাড়ার পর যানজট কেটে গেলে আবার বাসে ওঠা।
এভাবে হেঁটে কিছুটা এগিয়ে থাকতে চাওয়া ব্যক্তিদের একজন মুহাম্মদ সালেহ জামান। তিনি শাহবাগ এলাকায় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বলে জানালেন। যখন কথা হয়, ততক্ষণে সরকার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাঁর অফিসের আধঘণ্টা সময় রাস্তায় কেটে গেছে। যে কারণে তিনি হেঁটেই এগোচ্ছিলেন।
মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বাসিন্দা সালেহ জামান বলেন, ‘রাতে দুবার লোডশেডিং হয়েছে। ঘুম ঠিকমতো হয়নি। এর মধ্যে আবার আজই প্রথম। তবু সাড়ে সাতটায় বাসা থেকে বেরিয়েছি। আটটার আগেই বাসে উঠেছি। কিন্তু যানজটে আধঘণ্টা শেষ।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ইলিয়াস হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটার আগে মানুষ ও যানবাহনের চাপ সড়কে খুব বেশি ছিল না। যানজটও অন্য দিনের তুলনায় কম ছিল।