বন্ধ পাম্পেও তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি

রাজধানীর আসাদগেট এলাকার তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায়ছবি: আহমেদ উল্যা ইউসুফ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার সরকারি অফিস, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। আজ সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পের বাইরে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটরসাইকেল–প্রাইভেট কারের চালকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

সকাল ১০টায় রাজধানীর আসাদগেট গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার দুটি পাম্প থেকে তেল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। পাম্পগুলো থেকে চালকদের বলা হচ্ছিল, ‘তেল নেই।’

তখন দেখা যায়, তালুকদার ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের সারি লেক রোড পর্যন্ত রয়েছে। আর সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে তেলের জন্য যানবাহনের সারি মোহাম্মদপুর টাউন হল ছাড়িয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকায় এসেছেন শফিউল্লাহ। তিনি রাজধানীর প্রবেশপথ গাবতলী থেকে শুরু করে আসাদগেট পর্যন্ত পাঁচটি পাম্প ঘুরেছেন তেলের জন্য। কিন্তু তিনি সব পাম্প বন্ধ পেয়েছেন।

আসাদগেট তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে শফিউল্লাহর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত এসেছি। বনশ্রী পর্যন্ত যেতে হবে। কিন্তু মোটরসাইকেলের তেল শেষ। তাই আর যেতে পারছি না। তেল না পেলে এখানেই অপেক্ষা করতে হবে।’

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ফাত্তাহ আজম বলেন, গতকাল সোমবার রাতে তাঁদের পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। তেল আবার আসতে দুপুর হবে। সে পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে।

সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন থেকে তেল নিতে সকাল ৬টায় গাড়ি নিয়ে সারি ধরেছেন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, সকাল ৬টায় মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে সারি ধরেন তিনি। পাম্প পর্যন্ত আসতে সকাল ৯টা বাজে। ৯টার কিছু পরই এই পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।

আসাদগেট এলাকার সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের সামনে যানবাহনের সারি। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায়
ছবি: আহমেদ উল্যা ইউসুফ

আবুল কাশেম বলেন, ‘এখনো সকালের নাশতা করতে পারিনি। মাথা ব্যথা করছে। পাম্প থেকে বলেছে, দুপুরের পর তেলের গাড়ি আসবে। তাই অপেক্ষা করছি। গাড়িতে বিন্দু পরিমাণ তেল নেই। অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’

বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও সকালে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাম্পটিতে তেলের জন্য যানবাহনের সারি ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে গেছে।

এই পাম্প থেকে তেল নিতে সকাল ৮টার কিছু আগে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করেন মো. তাশরিফ হাসান। এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

তাশরিফ হাসান এসেছেন গাজীপুর থেকে। তাঁর কর্মস্থল রাজধানীর ঝিগাতলায়। তিনি গাজীপুরের কোনো পাম্পে তেল পাননি। তিনি বলেন, ‘তেল না পেলে আজ আর অফিস করতে পারব না। সকাল ১০টায় অফিস শুরুর কথা। কিন্তু কিছু করার নাই।’