ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়োগিক আয়কর ও ই-রিটার্ন দাখিলবিষয়ক কর্মশালা শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ‘প্রায়োগিক আয়কর ও ই-রিটার্ন দাখিল’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ২২ আগস্ট ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রায়োগিক আয়কর ও ই-রিটার্ন দাখিল’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু হয়েছে। কর্মশালায় ব্যাংকার, অর্থ ও হিসাবসংক্রান্ত পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও কর প্রশাসকদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এমবিএ ভবনের অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস হলে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগ এবং বিভাগের অধীনে পরিচালিত মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট (এমটিএম) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালার মূলভাব—‘শিখুন। চর্চা করুন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাখিল করুন’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মশালার চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম জাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইকতিয়ারউদ্দিন মো. মামুন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির পরিচালক ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া।

তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অর্থ আইন, ২০২৬-এর সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও এর প্রভাব, ই-রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি, কর সম্মতি, উৎসে কর কর্তন (টিডিএস), অগ্রিম আয়কর (এআইটি), নিরীক্ষা ও মামলা পরিচালনা বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি বলেন, বিভাগের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আয়কর দেওয়া নাগরিকের দায়িত্ব হলেও রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া অনেকের কাছে জটিল মনে হয়। এ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বিদ্যমান জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা ও নতুন জ্ঞান যুক্ত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইকতিয়ারউদ্দিন মো. মামুন বলেন, বর্তমান সময়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ধাক্কার কারণে দেশের অর্থনীতি একটি নিম্ন ভারসাম্যের অবস্থায় রয়েছে। রাজস্ব আদায়, কর-জিডিপি অনুপাত ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি কম; অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেশি। এ পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে গতিশীল পথে ফিরিয়ে আনতে রাজস্ব আয় বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির রেখে জোর করে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে প্রথমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে হবে। একই সঙ্গে করদাতাদের মধ্যে কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা এবং কর দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কর-সচেতনতা ও রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, আয়কর ও ই-রিটার্ন বিষয়ে এ ধরনের কর্মশালা সময়োপযোগী। তবে শুধু ই-রিটার্ন ফরম পূরণ শেখানোই যথেষ্ট নয়; করের পরিবর্তিত নিয়ম ও এর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে করদাতা ও কর পেশাজীবীদের ধারণা থাকা জরুরি।

এই শিক্ষক বলেন, কর পেশাজীবীদের কাজ শুধু ক্লায়েন্টের রিটার্ন পূরণ করা নয়; বরং আইন মেনে কীভাবে ক্লায়েন্টের কর ব্যবস্থাপনা করা যায়, সে বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দেওয়া। কর ব্যবস্থাপনা ও কর ফাঁকি এক বিষয় নয়—এ পার্থক্য বুঝে ক্লায়েন্টকে তার আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে পরিকল্পনা দিতে হবে। একজন ভালো কর পেশাজীবীকে প্রতিটি তথ্য ও ফরম পূরণের প্রভাব সম্পর্কে ক্লায়েন্টকে জানাতে হবে। এর মাধ্যমে ক্লায়েন্টের আস্থা তৈরি হবে এবং কর পেশাজীবীদের কাজ আরও অর্থবহ হবে।

উদ্বোধনী পর্বে আরও বক্তব্য দেন সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির পরিচালক ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা শেখ এবং এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মুসতবা ইশতিয়াক আহমদ।

তিন দিনের এ কর্মশালা ২২ আগস্ট ছাড়াও ২৮ ও ২৯ আগস্ট বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ আগস্ট তৃতীয় দিনের সেশন শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হবে।