কানাডাপ্রবাসী গৃহবধূ খুন: শ্বশুর–দেবরসহ চারজন গ্রেপ্তার

আফরোজা বেগম

রাজধানীর দক্ষিণখানে মাটি খুঁড়ে গৃহবধূ আফরোজা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ খান থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় পুলিশ আফরোজার শ্বশুর, দেবর, দেবরের স্ত্রী ও খালাশাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে।

দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. আফতাব উদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকালে আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে কানাডাপ্রবাসী তাঁর ভগ্নিপতি আশরাফুল আলম, ঢাকায় অবস্থানরত আফরোজার শ্বশুর সামসুদ্দিন, দেবর সজিব, সজিবের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার ও খালাশাশুড়ি শান্তা চৌধুরীকে আসামি করে মামলা করেন।

আফতাব বলেন, মামলার পর দক্ষিণখানের দক্ষিণপাড়া ও মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আফরোজার শ্বশুর, দেবর, জা ও খালাশাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন গত শনিবার আশরাফুল কানাডায় চলে যান। পারিবারিক কলহের জেরে আফরোজাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আফতাব বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিয়েতে এক কোটি টাকা কাবিন লেখাতে বাধ্য করায় আশরাফুল তাঁর স্ত্রী আফরোজার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে অন্য ব্যক্তির সম্পর্ক আছে বলে আশরাফুল সন্দেহ করতেন। এসব কারণে গত শুক্রবার আশরাফুলই তাঁর স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে আফরোজার পরনের শাড়ি দিয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে বাসার পেছনে মাটিচাপা দেন। অন্যরা সরাসরি খুনে জড়িত না থাকলেও মরদেহ গুমে সহায়তা করেন।

আশরাফুল-আফরোজা দম্পতি কানাডা থাকতেন। সেখানে তাঁদের বিয়ে হলেও কাবিন হয়নি। গত এপ্রিলে তাঁরা দেশে ফেরেন। কিছুদিন আগে আফরোজাদের নীলফামারীর ডোমারে গ্রামের বাড়িতে এক কোটি টাকার কাবিন করা হয়। এতে আশরাফুল তাঁর স্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। গত শুক্রবার এ নিয়ে দক্ষিণখানের দক্ষিণপাড়ার বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। একপর্যায়ে আশরাফুল বঁটি দিয়ে আফরোজার মাথায় কোপ দেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।  

পুলিশ সূত্র জানায়, আফরোজার মৃত্যু হলে ওই দিনই তাঁর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। এরপর আশরাফুল তড়িঘড়ি করে কানাডা চলে যান। আফরোজার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দক্ষিণখানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নেন। কিন্তু শ্বশুরপক্ষ কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। পরে গত সোমবার আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরেই তাঁর মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ। আশরাফুল ও আফরোজার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের ঘরে তাঁদের দুজনেরই সন্তান আছে।