করোনায় সব যখন অবরুদ্ধ, ফাহিম তখন ঢাকায়। করোনার বিধিনিষেধে বাড়ি ফিরতে পারেননি। গৃহবন্দী দুঃসহ সময়। অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলার জন্য মুঠোফোনে থাকা ছবি আঁকতে শুরু করেন। রংতুলির বদলে কাঠকয়লা ও পেনসিলে আঁকা সেসব ছবি তাঁর কাছে আর ছবি থাকেনি, হয়ে ওঠে বিষণ্ন সময়ের একাকিত্ব কাটিয়ে ওঠার অনুষঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরে জীবন্ত মডেল সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি আঁকা ফাহিমকে সেবার মুঠোফোনের ছবি দেখেই আঁকতে হয়েছিল।

২০১৩ সালে রাজধানীর সদরঘাটে একটি আর্টস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ফাহিম। ছাত্রদের জন্য রেখেছিলেন বেতনভুক মডেল। বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থেকেই সেই মডেল বেতন নিতেন। স্কুলে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ৫০ জন। রোজগার করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন শিল্পী। ২০১৭ সালে ইউডার চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন ফাহিম। এরপর মহামারিতে সেই স্কুলও যায় বন্ধ হয়ে। ফাহিম বলেন, করোনায় অনেক কিছুর মতো তাঁর স্কুলটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে শুরু হয় তাঁর একার যাপন।

২০২০ সাল থেকে টানা ১৪ মাস অনেক ফিগার এঁকেছেন ফাহিম। ফাহিম হাওর এলাকায় বড় হয়েছেন। হাওর থেকে তুলে আনা বিষণ্নতা তাঁর পেনসিলে ভর করে নেমে এসেছে কাগজে। সেখানে ধরা দেয় পাশের বাড়ির কিশোরী, তরুণীরা। তাঁর পড়শি, বন্ধু ও স্বজনদের মুখ ও অবয়ব এখন শূন্য আর্ট স্পেসে জায়গা করে নিয়েছে। ইতিমধ্যে শিল্প সংগ্রাহকদের বাড়ির ঠিকানাও পেয়ে গেছে কয়েকটি ছবি। জানতে চাইলে ফাহিম বলেন, ‘আমি হাওরের ছেলে। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের পরিবেশ, আবহাওয়ার একটা আভা আমার আঁকা ছবিগুলোর মধ্যে ছায়া ফেলেছে। যে সময়ে ছবিগুলো আঁকা, সেই সময়টাও ছিল ওরকমই বিষণ্নতায় ভরা।’

প্রিয় চিত্রকর লুসিয়ান ফ্রয়েড, মার্ক রথকো এমনকি শিক্ষক শাহজাহান আহমেদ বিকাশের চিত্রকর্ম অনুপ্রাণিত করে ফাহিমকে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি যৌথ চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে শিল্পরসিকদের মনোযোগ কেড়েছে তাঁর আঁকা ছবি। শূন্য আর্ট স্পেসে বন্ধু ও অনুজেরা নিয়ম করে দেখে যাচ্ছেন তাঁর কাজগুলো। সবার শুভকামনা নিয়ে বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের দেশে উচ্চতর পড়াশোনা করতে যেতে চান ফাহিম চৌধুরী।

‘অবয়ব’ শীর্ষক ফাহিম চৌধুরীর একক এই চিত্রকর্মের প্রদর্শনী চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। সেখানে গেলে দেখা যাবে ফাহিমের আঁকা এমন ১৬টি চিত্রকর্ম। প্রদর্শনীর জন্য ছবিগুলো বাছাই ও বিন্যাস করেছেন জাফর ইকবাল। রোববার বাদে প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী ঘুরে আসা যাবে।