বাজারে রকমারি খেজুর, আছে মরিয়ম–আজোয়া–দাবাস, দাম চড়া

  • খেজুরের মধ্যে তুলনামূলক মিষ্টি সুক্কারি খেজুর। মিষ্টি স্বাদের জন্য অনেকের পছন্দ এই খেজুর।

  • আজোয়া খেজুর ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বেশির ভাগ ক্রেতাকে এই খেজুরের খোঁজ করতে দেখা গেল।

আজ থেকে শুরু হলো পবিত্র রমজান। রমজান উপলক্ষে খেজুর কেনার হিড়িক পড়েছে নগরবাসীর মধ্যে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারেছবি: মীর হোসেন

মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বরের পাশে ফলপট্টি মসজিদ গলিতে দেখা যায় সারি সারি খেজুরের দোকান। কেউ কেউ দোকান সাজিয়েছেন ফুটপাতে। দোকানগুলোতে পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢাকা রকমারি খেজুরের বাক্স। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়।

পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বাড়ে খেজুরের বিক্রি। ক্রেতা ও দাম ছাপিয়ে বাজারে চোখে পড়ে আরেকটি বিষয়, খেজুরের বৈচিত্র্য। বিক্রেতারা জানান, বাজারে প্রায় ৪০ ধরনের খেজুর আছে। এর মধ্যে বেশি বিক্রি হয় দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম ও আজোয়া।

ফলের মধ্যে খেজুর অন্যতম শক্তিদায়ক ফল। কারণ, এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি। তা ছাড়া এতে আয়রনের পরিমাণও বেশি। যাঁদের অ্যানিমিয়া আছে, তাঁদের জন্য খুব ভালো খাবার।
শামসুন্নাহার নাহিদ, প্রধান পুষ্টিবিদ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল

ফলপট্টি মসজিদ গলিতে খেজুর কিনছিলেন রিনা আক্তার (৪৫)। পেশায় তিনি শিক্ষক। কিনলেন সুক্কারি ও আজোয়া খেজুর। রিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘খেজুর সব সময়ই নেওয়া হয়। আবার রোজাও পরশু। আজোয়া নিল ১ হাজার টাকা কেজি আর সুক্কারি ৭০০ টাকা। দুটোই অল্প অল্প করে নিলাম। শেষ হলে আবার নিব। আমরা সীমিত আয়ের মানুষ, সীমিত পরিমাণেই নিতে হয়।’

বিক্রেতারা জানান, বাজারে প্রায় ৪০ ধরনের খেজুর আছে। এর মধ্যে বেশি বিক্রি হয় দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম ও আজোয়া।

খেজুরের মধ্যে তুলনামূলক মিষ্টি সুক্কারি খেজুর। মিষ্টি স্বাদের জন্য অনেকের পছন্দ এই খেজুর। কিছুটা বাদামি রঙের মাঝারি আকৃতির এই খেজুরের দাম প্রতি কেজি ৭০০–৮০০ টাকা।

বাজারে প্রায় ৪০ ধরনের খেজুর আছে। এর মধ্যে বেশি বিক্রি হয় দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম ও আজোয়া।

আজোয়া খেজুর ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বেশির ভাগ ক্রেতাকে এই খেজুরের খোঁজ করতে দেখা গেল। কিছুটা কালচে রঙের এই খেজুরের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

ইফতার মাহফিলগুলোর জন্য ক্রেতাদের পছন্দ জাহিদি ও বরই খেজুর। মূলত দাম কিছুটা কম থাকায় ক্রেতারা এই খেজুর নিয়ে থাকেন। জাহিদি খেজুর প্রতি কেজি ২৫০ টাকা এবং বরই খেজুর ৫৫০ টাকা।

আজোয়া খেজুর ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বেশির ভাগ ক্রেতাকে এই খেজুরের খোঁজ করতে দেখা গেল। কিছুটা কালচে রঙের এই খেজুরের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের পাশে ফলপট্টি মসজিদ গলিতে খেজুর কিনছেন কয়েকজন। ১৭ ফেব্রুয়ারি
ছবি: প্রথম আলো

খুচরা ব্যবসায়ীরা রাজধানীর বাদামতলী ফলের আড়ত থেকে আনেন এসব খেজুর। বিক্রেতারা জানান, রোজা সামনে রেখে আড়ত থেকে তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আড়তের দাম থেকে সামান্য লাভেই বিক্রি করছেন বলে জানান তাঁরা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা মিল্লাত হোসেন (৩৫) প্রথম আলোকে বলেন, ‘আড়তে ব্যাপক দাম বাইড়া গ্যাছে। যেইটা আমরা ১৮০ ট্যাকা কেনতে পারছি, সেইটা এখন ২৪০ ট্যাকা। তাইলে আমরা কোন দামে বেচমু! কাস্টমার (ক্রেতা) চায় কম দামে ভালোটা। অল্প লাভেই ছাইড়া দিতেছি।’

মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বরের ফলপট্টি মসজিদ গলিতে সারা বছর ব্যবসা করেন নায়েল আফরিদি (২৭)। তিনি বলেন, ‘রমজানে যে নতুন মালটা ছাড়ছে, ওইটার দামটা একটু বেশি। আর পুরান যে মালগুলো আছে, ওগুলা একটু কম দামেই ছাইড়া দিতাছে।…আমি বারো মাসই ব্যবসা করি। এখন বিক্রিটা বেশি। কারণ, রমজান আসছে। এ সময় বিক্রিটা বাড়ে।’

আড়তে ব্যাপক দাম বাইড়া গ্যাছে। যেইটা আমরা ১৮০ ট্যাকা কেনতে পারছি, সেইটা এখন ২৪০ ট্যাকা। তাইলে আমরা কোন দামে বেচমু! কাস্টমার (ক্রেতা) চায় কম দামে ভালোটা। অল্প লাভেই ছাইড়া দিতেছি
খুচরা বিক্রেতা মিল্লাত হোসেন

কারওয়ান বাজারে দেখা হলো সালেহ আহমেদের (৫৬) সঙ্গে। এক সপ্তাহ আগে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। রোজা উপলক্ষে দুই কেজি মরিয়ম খেজুর কিনলেন। সালেহ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগের দাম সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারণা নাই। দাম একটু বাড়তি মনে হলো। তবে খেজুরের কোয়ালিটি (মান) ভালো।’

মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের পাশে ফলপট্টি মসজিদ গলিতে বিক্রি হচ্ছে খেজুর। ১৭ ফেব্রুয়ারি
ছবি: প্রথম আলো

বাজারে মরিয়ম খেজুরের চাহিদা বেশি। কয়েক ধরনের মরিয়ম খেজুর আছে। এর মধ্যে ইরানি মরিয়মের দাম কিছুটা বেশি, প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। অন্যান্য মরিয়ম খেজুরের মধ্যে আছে সাফাভি (৮০০ টাকা), কামরাঙ্গা (৭০০ টাকা), গাছ পাকা মদিনা মরিয়ম (৫৫০ টাকা)। এ ছাড়া বাজারে আছে মেডজুল, খুরমা, আম্বার, ছরাসহ নানা প্রকার খেজুর।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, সারা দিন রোজা রাখার পর চটজলদি শক্তি পেতে খেজুর বেশ সহায়ক। ফলের মধ্যে খেজুর অন্যতম শক্তিদায়ক ফল। কারণ, এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি। তা ছাড়া এতে আয়রনের পরিমাণও বেশি। যাঁদের অ্যানিমিয়া আছে, তাঁদের জন্য খুব ভালো খাবার।

সারা দিনে কতটি খেজুর খেতে পারবেন, এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার। তবে অতিরিক্ত ওজন থাকলে বা ডায়াবেটিস থাকলে হিসাব করে খেতে হবে। কারও যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে তাঁর একসঙ্গে দুটির বেশি খেজুর খাওয়া ঠিক নয়।

মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের পাশে ফলপট্টি মসজিদ গলিতে খেজুর কেনাবেচা চলছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি
ছবি: প্রথম আলো

সাধারণত ইফতারে খেজুর খাওয়ার চল। তবে এই পুষ্টিবিদ বলেন, ‘এটি সাহ্‌রিতেও খাওয়া যেতে পারে। আমাদের দেশে সাধারণত দুধ, ভাত, কলা খাওয়া হয়। সেখানে খেজুরও খাওয়া যেতে পারে।’