অনুষ্ঠানে দুই ক্যাটাগরিতে এই স্মৃতিপদক মোট চারজনকে প্রদান করা হয়। প্রিন্ট মিডিয়া ক্যাটাগরিতে ‘১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ: মোড় ঘোরানো ঘটনাবলি’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য দৈনিক সমকালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু সালেহ রনিকে এবং প্রথম আলো পত্রিকায় পাঁচটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য গবেষক শাহাদুজ্জামান ও খাইরুল ইসলামকে যৌথভাবে স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়। আর ‘একাত্তরের বসু বাহিনী’ শিরোনামে প্রতিবেদনের জন্য ৭১ টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক পার্থ সঞ্জয়কে স্মৃতিপদক প্রদান করা হয় ইলেবট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি থেকে পদক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার হিসেবে পদক ও এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে কত অবদান আছে মানুষের, যাঁদের কথা বলা হয় না। তাঁরা দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাচ্ছেন। তরুণ সাংবাদিকেরা কিছু ঘটনা খুঁজে বের করে তুলে ধরছেন। আশা করি, আরও গভীরভাবে তাঁরা এগুলো জানার চেষ্টা করবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে যে সরকার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে যায়। সে জন্য এটা (মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর) যেন তার নিজস্ব সত্তা নিয়ে থাকতে পারে, অন্যায়ের বা শাসকদের কাছে যেন মাথা নত না করে। সে জন্য অভিনন্দন জানাই জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তাঁরা যেন সত্যিকার ইতিহাস নিয়ে নির্মোহ থাকেন। আমরা সব সময় নির্মোহ থাকি না। আমি যেহেতু রাজনৈতিক কর্মী, আমার দৃষ্টি সব সময় স্বচ্ছ থাকে না। কিছুটা সংকীর্ণতায় আমাকে ভুগতেই হয় বা যেকোনো মানুষ ভুগতেই পারেন। তাঁর যে আনুগত্যটা সীমিতভাবে কোথাও থাকে, দলীয়ভাবে থাকে। থাকতে হতে পারে।’

মুক্তিযুদ্ধ না দেখেও তা কত সুন্দরভাবে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জুরিবোর্ডের সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, এ দেশে একঝাঁক তরুণ সাংবাদিক জন্ম নিয়েছেন। তাঁরা সারা দেশের আনাচকানাচ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বহু অজানা তথ্যকে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেছেন। আজ মুক্তিযুদ্ধ যে জীবন্ত ইতিহাস, তার জন্য সবচেয়ে গৌরবের অধিকারী হচ্ছেন তাঁরা।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব সারা যাকের বলেন, গবেষণার ওপর যে প্রতিবেদনকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের শরণার্থী ক্যাম্পের চিত্র ফুটে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন জুরিবোর্ডের সদস্য অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বজলুর রহমানের স্ত্রী ও সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন