ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোসহ ছাত্র ইউনিয়নের ১২ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতারা। মধুর ক্যানটিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৫ জুলাই ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে ১২ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই দাবি উত্থাপন করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি দুর্জয় রায়, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোস্তাকিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিশকাতুল মাশিয়াত।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন। গবেষণা বাজেট প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। এবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অথচ বিগত অর্থবছরে গবেষণার জন্য বরাদ্দ ছিল ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

সংগঠনটির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি গবেষণার বরাদ্দ না দিয়ে ইউজিসি কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে তা ব্যবস্থাপনা করা হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যা গবেষণার মানকে আরও নিম্নমুখী করে তুলবে।

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও বিদ্যুৎ-সংযোগ ব্যবহার করে ছাত্রদলের উদ্যোগে এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ প্রদর্শন করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিটি খেলার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ভিড়ের কারণে নারী শিক্ষার্থীরা খেলা না দেখেই ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে টিএসসিতে মেট্রোস্টেশনের কারণে সৃষ্ট অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ভিড় ও অব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ও সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ডাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হলেও নতুন নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসন কিংবা ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ছাত্র ইউনিয়ন অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে ডাকসুকে ছাত্রশিবিরের দলীয় প্ল্যাটফর্ম বানানোর মাধ্যমে এর গণমুখী ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতারা।

শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট ও খাবারের মান নিয়ে নেতারা বলেন, প্রতিটি হলে, বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে তীব্র আবাসনসংকট ও মানবেতর জীবনযাত্রা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় ক্যানটিন ও খাবারের দোকানের সংখ্যা যেমন অপ্রতুল, তেমনি পরিবেশন করা খাবারের পুষ্টিমান ও পরিবেশও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা, নারী শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল করা, ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের ‘মোরাল পুলিশিং’ ও হেনস্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবিলম্বে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সব ধরনের করপোরেট প্রচারণা বন্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় গঠনতান্ত্রিক সংস্কার সম্পন্ন করে যথাসময়ে ডাকসু নির্বাচনের তাগিদ দেওয়া হয়।

সংগঠনটির অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা, হল ও একাডেমিক ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ক্যানটিন চালু করা এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করা। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন বিভাগ একীভূতকরণের যেকোনো উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানায় সংগঠনটি।