আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন। ‘পাঠ্যপুস্তকে চৌর্যবৃত্তি, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে’ ডাকা এই কর্মসূচিতে নেতারা চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানো, চাকরির আবেদন ফি বাতিল, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) আদলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিসহ সব চাকরিতে নিয়োগের জন্য বোর্ড গঠন এবং প্রতিটি জেলা শহরে বেকার হোস্টেল স্থাপনের দাবি জানান।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘ড. জাফর ইকবাল একটি ওয়েবসাইট থেকে কপি-পেস্ট করলেও তা স্বীকার করেননি। কিন্তু তিনি এর দায় চাপিয়ে দিলেন দায়িত্বে থাকা অন্যান্য শিক্ষকের ওপর। পাঠ্যপুস্তকে বোরকাকেও অবমাননা করা হয়েছে; যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এগুলো কোনো ভুল নয়। এগুলো অপরাধ ও গভীর ষড়যন্ত্র।’

‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াতে গভীর ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে কোমলমতি শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে যেভাবে লেখালেখি করা হয়েছে, তা কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন বিন ইয়ামিন মোল্লা। তিনি বলেন, দেশটাকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী করে দেওয়ার জন্য একাত্তরে দেশের মেধাবী সন্তানদের যেভাবে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ঠিক সেই গোষ্ঠী ২০২৩ সালে এসে আবারও দেশের ভবিষ্যৎ ও মেরুদণ্ড পঙ্গু করে দিতে পাঠ্যপুস্তকে ভিনদেশি সংস্কৃতি-দেশপ্রেম, বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ঢুকিয়েছে।

স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলে স্মার্টভাবে চুরির লাইসেন্স খোঁজা হচ্ছে উল্লেখ করে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, ‘এখনো প্রাথমিক, রেলওয়ে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা আছে। কোটাব্যবস্থাকে আমরা যৌক্তিক পর্যায়ে সংস্কারের দাবি জানাই। দাবি আদায়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দেব।’

পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে চৌর্যবৃত্তি করা হয়েছে। ওই দুই শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে বখতিয়ার খিলজি ও সুলতানি আমলের বিষয়ে চরম ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে সূক্ষ্ম সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে। পাল ও সেন বংশের ইতিহাসের বিস্তৃত বর্ণনা করা হয়েছে। ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তারা শিক্ষাবিমুখ করতে চাইছে।

‘সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদে পাখি হিসেবে ময়ূর এবং ফুল হিসেবে জবা ও পদ্মর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের জাতীয় প্রতীকগুলোকে সেখানে স্থান দেওয়া হয়নি। কেন এটি করা হলো? আমরা জানি, প্রতিবেশী একটি দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক পদ্মফুল আর ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি। অর্থাৎ এবারের পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে জড়িতদের দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্র রয়েছে’, বলেন আরিফুল ইসলাম।

পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং আর কখনো এমন দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানান আরিফুল ইসলাম। পাঠ্যবইয়ে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সপ্তম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী এই কঠিন বিষয়টির সঙ্গে কোনোভাবে খাপ খাওয়াতে পারবে না। একটি বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠী বাংলাদেশকে হার্ড সেক্যুলারিজমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত করার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।

ছাত্র অধিকারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তারেকুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের নেতা মামুনুর রশীদ, তৌহিদুল ইসলাম, রাসেল সরকার, আহনাফ সাঈদ খান, আসিফ মাহমুদ বক্তব্য দেন।