গত ২৫ মে হোটেল চত্বর থেকে প্রকৌশলী সুব্রত সাহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করেছিল। পুলিশও প্রাথমিক তদন্ত শেষে আত্মহত্যা হতে পারে উল্লেখ করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত সাহার বন্ধু প্রকৌশলী রিয়াসাত সুমন বলেন, ঘটনার দুই মাস পার হতে চলছে। এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষ একেকবার একেক বক্তব্য দিচ্ছে। কখনো তারা বলছে, হোটেলের ১১ তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে প্রকৌশলী সুব্রত সাহা আত্মহত্যা করেছেন। আবার কখনো দাবি করছে, সুব্রত মানসিক রোগী ছিলেন, তিনি নিয়মিত মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কখনো তারা দাবি করছে, শেয়ারবাজারের লোকসানের কারণে সুব্রত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কিন্তু তাঁর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে হোটেল কর্তৃপক্ষের এসব দাবির কোনো সত্যতা মেলেনি।

রিয়াসাত সুমন দাবি করেন, ‘হোটেল সংস্কারের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সুব্রত আমাদের বলেছিল, হোটেলের পরিকল্পনা ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুর রহিম ও ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আজিজার রহমান মিলে এই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেন। এ জন্য তাঁরা খরচের অতিরিক্ত বিল তৈরি করে তাতে সুব্রতকে স্বাক্ষর করতে চাপ দিচ্ছিলেন। প্রস্তাবে তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

রিয়াসাত সুমন বলেন, প্রায় ২২ বছর ধরে সুব্রত এখানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই কর্মকর্তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রায় এক বছর ধরে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করলেও সম্প্রতি তিনি হিসাব বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। কর্মক্ষেত্রে হয়রানির কথা তিনি তাঁর স্ত্রীকেও বলেছিলেন।

প্রকৌশলী রিয়াসাত আরও বলেন, ওই দুই কর্মকর্তার সঙ্গে সুব্রত সাহার কাজ নিয়ে বিরোধ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যা মামলা হওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তা কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এখন তাঁরা আবার অফিস করছেন। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। দুই মাস পেরোলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। এক মাস আগে তাঁর স্ত্রী নূপুর সাহার সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এরপর মামলার আর কোনো অগ্রগতি নেই। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী আশ্রাফুর রহিমকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি। প্রকৌশলী আজিজার রহমানের মুঠোফোনে কয়েক দফায় ফোন করে নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত সুব্রত সাহার স্ত্রী নূপুর সাহা বলেন, ঘটনার পর মামলা হয়েছে। শুরুতে তদন্ত কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলেও এখন আর কোনো তদন্ত হচ্ছে না। এক মাস আগে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

নূপুর সাহা বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর আমি একমাত্র মেয়েকে নিয়ে আর্থিক কষ্টে আছি। হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের পাওনা টাকাও এখনো বুঝিয়ে দেয়নি।’

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার আজিমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, সুব্রত সাহা আত্মহত্যা করেছেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন