উৎসবের শরৎ-কথন পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, ‘শরতের কাশবন আমার হৃদয়ে এখনো দোলা দেয়। শরৎসহ বাংলার ঋতুগুলো সুরক্ষিত করতে হলে, প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে চারপাশে প্রচুর গাছ লাগাতে হবে আমাদের।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি নিগার চৌধুরী।

আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বাঙালি মানসিকতার সঙ্গে ঋতুবৈচিত্র্যের নানা অনুষঙ্গ জড়িয়ে রয়েছে। শরতের বিশাল নীল আকাশ আমাদের মনের গভীরতাকে প্রসারিত করে, মনকে আরও উদার করে। মানুষের মন যত উদার হবে, দেশ তত বেশি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক হবে। আমরা যদি পরিবেশের প্রতি যত্নশীল না হই, তাহলে শরতের এ আকাশ হারিয়ে যাবে। যদি পরিবেশ সংরক্ষণ না করি, তবে শরৎসহ সব ঋতুর বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাবে।’

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘শিল্পোন্নত দেশগুলো যেভাবে কার্বন নিঃসরণ করে যাচ্ছে, তাতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বেড়েই যাবে। বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের অবশ্যই বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, ভালোবাসতে হবে প্রকৃতিকে।’

নিগার চৌধুরী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যের কথা বলতে গিয়ে বর্ষার আকাশের সঙ্গে শরতের মাঠভরা ফসলের কথাও বলেছেন। এ ফসল আমাদের সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। আজ এই ক্ষণে আমরা বলি, অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সংস্কৃতিরও উন্নয়ন হতে হবে। দুই উন্নয়ন একত্রে হলে তবেই বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী।

default-image

অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে নির্মলেন্দু গুণের ‘কাশফুলের কাব্য’ আবৃত্তি করেন নায়লা তারান্নুম চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্র’ আবৃত্তি করেন আহসান উল্লাহ, মো. নাসির উদ্দিনের ‘শরৎকাল’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন সেবতি প্রভা। একক কণ্ঠে ছিল বেশ কয়েকজন শিল্পীর গান। ফাহিম হোসেন চৌধুরী শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘এবার অবগুণ্ঠন খোলো’, অনিমা রায় শোনান ‘শরৎ-আলোর কমলবনে’, আর বিমান চন্দ্র বিশ্বাস শোনান লোকসংগীত ‘হিংসা হিন্দা ছাড়ো’। সঞ্জয় কবিরাজ শোনান নজরুলসংগীত ‘দূর প্রবাসে মন কাঁদে’, আরিফ রহমান শোনান লোকসংগীত ‘চাতুরি করিয়া মোরে’, ফেরদৌসী কাকলী শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’, রত্না সরকার শোনান আধুনিক গান ‘আকাশটা তো নীল চিঠি নয়’।

এ ছাড়া এস এম মেজবা ‘আরে ও জীবন ছাড়িয়া না যাও মোর’, শ্রাবণী গুহ রায় ‘আমি সুরের পিয়াসী’, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী ‘ভাসে আকাশে শুকতারা হাসে’, মারুফ হোসেন শোনান রাধারমণ দত্তের ‘মনে নাইগো আমার বন্ধুয়ার মনে নাই’ গানগুলো।

অনুষ্ঠানে সম্মেলক সংগীত পর্বে বহ্নিশিখার শিল্পীরা গেয়েছেন, ‘শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে ভোরের আগমনী’; সুর নন্দনের শিল্পীরা শোনান, ‘এসো শারদ প্রাতের প্রতীক’; পঞ্চভাস্করের শিল্পীরা শোনান, ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়’; সুরবিহারের শিল্পীরা গেয়েছেন, ‘শিউলি তলায় ভোর বেলায়’; সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী শোনায়, ‘দেখো দেখো, দেখো শুকতারা আঁখি মেলি চায়’ ও ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম’ গানগুলো।

‘আজ শরতে আলোর বাঁশি বাজল’ গানের সঙ্গে নাচ করেছে নৃত্যাক্ষ। রবীন্দ্রসংগীত ‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’ গানের সঙ্গে মঞ্চে আসেন নৃত্যজনের শিল্পীরা, নজরুলসংগীত ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক’ গানের সঙ্গে বাফার শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। এ ছাড়া নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন