শিপন বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াসির আরাফাত প্লাবন, আল-ইমরান ও ইয়াছিন আল শাহীন তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনজনই চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর সিকদারের অনুসারী।

গতকাল রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিপন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিভাগের ইনকোর্স পরীক্ষা চলছে। গতকাল রাতে আমি নিজ কক্ষে পড়াশোনা করছিলাম। এ সময় ইয়াসির আমার তিন সহপাঠীকে দিয়ে আমাকে গেস্টরুমে ডেকে পাঠান। আমি সহপাঠীদের বলি, “ভাইকে গিয়ে বল যে আমার পরীক্ষা চলছে। তাই যেতে পারছি না।”’

পরে তাঁকে আবার ডেকে পাঠানো হয় বলে জানান শিপন। বলেন, ‘বাধ্য হয়ে আমি হলের ১৭৭ নম্বর কক্ষে যাই। সেখানে যাওয়ার পর ইয়াছিন আমার হাত থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেন। এ ছাড়া কেন কল ধরিনি, তা জানতে চান এবং গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ইয়াসির আমার গালে থাপ্পড় দেন, আর ইমরান পেটে স্ট্যাম্প দিয়ে খোঁচা দেন। এরপর ওই কক্ষে আরও অনেকের সামনে আমাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন ইয়াছির, ইমরান ও ইয়াছিন। পরীক্ষা শেষে আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কল করা হলে ইয়াসির ও ইয়াছিন ফোন ধরেননি। অপর দিকে শিপন মিয়াকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-ইমরান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের ডেকে খোঁজখবর নিই। কাউকে মারধর বা নির্যাতন করা হয়নি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।’

জানতে চাইলে এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি শিপন মিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। শিপন বলেছেন, তাঁর সঙ্গে তেমন কিছু ঘটেনি। এসএম হলে ‘গেস্টরুম’ হয় না বলেও দাবি করেন তানভীর।

এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে একাধিক কল করা হলেও এসএম হলের প্রাধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানা যায় তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ মুহাম্মদ বেলাল হোসেনের কাছে সোমবার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন শিপন মিয়া। মুহাম্মদ বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিপনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মঙ্গলবার জরুরি সভা ডেকেছি। সেখানে তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হলের অতিথিকক্ষে ডেকে নির্যাতন চালানোর ঘটনা শিক্ষার্থীদের কাছে ‘গেস্টরুম নির্যাতন’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে হলের কোনো কক্ষে ডেকে নির্যাতন করা হলে একে শিক্ষার্থীরা ‘মিনি গেস্টরুম’ নির্যাতন বলে থাকেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন