শতবর্ষে শহীদ মিনারে শতকণ্ঠে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’

বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শতাধিক শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় নজরুলের জাগরণী গান ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’। ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

১৯২৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম রচনা ও সুর করেছিলেন ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’। এক শতাব্দী পর সেই গানই আবার ধ্বনিত হলো রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। গানটির শতবর্ষ উদ্‌যাপন ও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটা থেকে হয় বিশেষ এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ১২০ জনের কণ্ঠে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ পরিবেশনা। পুরো আয়োজনে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ ৩০০ জনের বেশি শিল্পী ও পরিবেশক অংশ নিয়েছেন।

‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ ও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা। ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬
ছবি: প্রথম আলো

১৯২৬ সালের ২২ মে কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক সম্মিলনীতে নজরুল গানটি পরিবেশন করেন। পরে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ শিরোনামে গানটি বঙ্গবাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই বছরের জুনে ঢাকায় এসে মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনেও গানটি পরিবেশন করেছিলেন নজরুল। একই বছরের সেপ্টেম্বরে কালি ও কলম পত্রিকায় প্রকাশিত হয় গানটির স্বরলিপি।

শহীদ মিনারের আয়োজনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যকে স্মরণ করে গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। নজরুলের চেতনা ও দ্রোহের গান, সুকান্তের প্রতিবাদী রচনা এবং রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্বের গান ছিল পরিবেশনায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর রচনা থেকেও বিশেষ পরিবেশনা রাখা হয়। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ছিল আবৃত্তি পরিবেশনাও।

আয়োজন নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর যে ঐক্য ও মানবতার বার্তা, এক শতাব্দী পরও তা প্রাসঙ্গিক। সেই বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন।’