সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইন
খসড়া হুবহু পাস হয়ে গেলেও সরকার আওয়ামী লীগের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে না: তথ্য উপদেষ্টা
সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া হুবহু পাস হয়ে গেলেও বিএনপি সরকার এর অপব্যবহার করবে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘যদি এটা হুবহু একইভাবেও পাস হয়ে যায়, তর্কের খাতিরে বলছি। তারপরও এই সরকার আগের সরকারের মতো করে এ আইন ব্যবহার করবে না। যদি সে আবারও একটা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়।’
শনিবার সকালে রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার ভবনে ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ও গণমাধ্যমের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা এ কথা বলেন। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সহযোগিতায় সভার আয়োজন করে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)।
সাইবার সুরক্ষা আইন আবার সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন সংশোধনীতে ডিজিটাল মাধ্যমে ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’কে আবারও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এজন্য ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে। নতুন করে যুক্ত করা এসব শব্দকে আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারার সঙ্গে তুলনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন এই সংশোধনী নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছেন তাঁরা।
এ নিয়ে মতবিনিময় সভায় জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘হাসিনা সরকারের সঙ্গে এই তুলনা পুরোপুরি সঠিক বলে আমি অন্তত মনে করি না।’ তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নিশ্চয়ই সরকার বিবেচনায় নেবে। তিনি নিজেই এটাকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, মিডিয়ার সঙ্গে সংঘাত করে স্বৈরাচারী সরকারের লাভ থাকে। কারণ সেই সরকার চায় মিডিয়ার কথা বন্ধ করতে। সে মিডিয়ার ওপর চাপ তৈরি করে। তিনি বলেন, একটা তথ্য নিয়ে একটা সরকারের ইমেজের যদি ক্ষতিও হয়, সেটা ওই সরকারের যতটুকু ক্ষতি করে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হয় যদি সরকার সেটার বিরুদ্ধে কোনো বাজে পদক্ষেপ নেয়। সুতরাং এই বোকামি সরকার করবে না।
বিজেসির চেয়ারম্যান ও যমুনা টিভির সিইও ফাহিম আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সিনিয়র আইনজীবী ও ‘ব্লাস্ট’–এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী।