বাহাদুর শাহ পার্কে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ছাত্রদলের শিক্ষালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বাহাদুর শাহ পার্কে ছাত্রদলের পরিচালনায় ‘সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষালয়ে’ পাঠদান চলছে। ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বাহাদুর শাহ পার্ক ও আশপাশ এলাকায় প্রতিদিন বহু ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর দেখা মেলে। কারও দিন কাটে পার্কে ঘুরে, কেউবা ব্যস্ত থাকে পরিবারের জীবিকার তাগিদে। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ না থাকা এসব শিশুর জন্য চালু করা হয়েছে ‘সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষালয়’।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে দুই দিন—প্রতি শনি ও মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এই উন্মুক্ত শিক্ষালয়ে পাঠদান চলছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা দিতেই এই কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

আজ শিক্ষালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। এ সময় শিশুদের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং তাদের হাতে নতুন বই, পুরস্কার ও খেলার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পরে শিশুদের দুপুরের খাবারও দেওয়া হয়।

শিক্ষালয়ে পাঠদানের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দুজনকে স্থায়ী শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদেরই একজন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. লিখন ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোনো সুবিধাবঞ্চিত শিশু যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই ভাবনা থেকেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব তাদের শিক্ষার বিষয়টি আরও বড় পরিসরে চালু করতে। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী শেখানোর চেষ্টা করছি।’

পার্ক এলাকায় থাকা ১০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইরফান এই স্কুলে পড়তে পেরে আনন্দিত। সে বলে, ‘এখানে অনেকেই পার্কে থাকে। তাদের মা-বাবা নেই। অনেকের পড়াশোনা করার সুযোগ নেই।’ শিক্ষালয়ে এসে নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ ও বই পেয়ে তার ভালো লাগার কথাও জানায় সে।

উদ্যোগটির বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আমরা ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এই শিক্ষালয় চালু করেছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এটি পরিচালনা করছেন। আমি এর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মাঝেমধ্যে এসে কার্যক্রম তদারকি করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে পথশিশুদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। এসব শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে, আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

আয়োজকেরা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া শিশুদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রতি মাসে শিশুদের মূল্যায়ন করা হয় এবং পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে দেওয়া হয় বিভিন্ন পুরস্কার।