জায়গা দখল করল ছাত্রলীগ, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সমাবেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের

নির্ধারিত স্থানে সম্মেলনে করতে না পেরে ঢাবি উপচার্যের বাসভবনের সামনের ফুটপাতে সম্মেলন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
ছবি: প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রথম সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটায়। কিন্তু দুপুরের দিকে ‘বটতলার গান: সিজন ওয়ান, এপিসোড ওয়ান’ শিরোনামে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড সোসাইটির ব্যানারে গানের অনুষ্ঠান করতে বটতলা দখলে নেয় ছাত্রলীগ। পরে পরিষদের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রাজু ভাস্কর্যে সম্মেলন করতে গেলে সেখানেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। সেখানেও পুরো সময় চলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ‘স্লেজিং’ (উপহাস)।

ছাত্রলীগের উপহাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তারেকুল ইসলাম। সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও আহনাফ সাঈদ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই ঢাকা ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড সোসাইটির ব্যানারে গানের অনুষ্ঠান করতে বটতলা দখলে নেয় ছাত্রলীগ৷ দুপুরেই সেখানে বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম এনে রাখা হয়৷ খবর পেয়ে পরিষদের নেতা-কর্মীরা সম্মেলনের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও পরে রাজু ভাস্কর্যকে নির্ধারণ করেন৷ তবে সেখানেও ছিল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থান৷ পরে নুরুল হক উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সম্মেলন করার ঘোষণা দেন৷ নেতা-কর্মীদের মিছিল নিয়ে নুরুল উপাচার্য ভবনের দিকে রওনা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানের অনুসারী একদল নেতা-কর্মী মোটরসাইকেলে করে তাঁদের পিছু নেন৷ এ সময় বিরতিহীনভাবে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজাতে থাকেন তাঁরা৷ সোয়া চারটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনের ফুটপাতে সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ছাত্র অধিকারের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা৷

বিন ইয়ামিনের বক্তব্যের পুরো সময় জুড়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘বিকাশ, বিকাশ’ বলতে থাকেন৷ পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিদায়ী সভাপতি আখতার হোসেন সম্মেলনের সভাপতির বক্তব্য দিতে গেলে তখনো উপহাস করতে থাকেন তাঁরা৷ নুরুল হক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু করলে তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উচ্চস্বরে ‘ভুয়া-ভুয়া’, ‘বিকাশ-নগদ পরিষদ’, ‘লর্ড আলমগীরের টাকা কই’, ‘ইসরায়েলের দালাল’ প্রভৃতি বলে মুহূর্মুহু উপহাস করেন৷

এ সময় ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, তিনি ছাত্র অধিকারের এক নেত্রীর হাসি দেখে প্রেমে পড়ে গেছেন৷ বক্তব্যের একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উপহাসের কড়া সমালোচনা করে নুরুল হক বলেন, সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা প্রতিষ্ঠানকে আজকে একটা অসভ্য-বর্বর সংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেটা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র নয়৷

অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনও দাবি করেন নুরুল হক৷ তিনি আরও বলেন, ‘সম্মেলনে যেসব মাদকাসক্ত, ইভটিজার ও অছাত্র বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে, তাদের আমরা ধিক্কার জানাই ও ঘৃণা প্রকাশ করছি৷ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরকে পদত্যাগের আহ্বান জানাই৷ ২০২৪ সালে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হবে৷ আজকে যারা বাইম মাছের মতো লাফালাফি করছেন, সবার চেহারা কিন্তু মার্ক করা আছে৷ সময়মতো সব পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে৷ এক মাঘে শীত যায় না৷’

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কে মিছিল বের করেন নুরুলসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা৷ মিছিল নিয়ে কলাভবনের বাইরের ফটক দিয়ে ঢুকতে গেলে প্রক্টর কার্যালয়ের আগে পরিষদের নেতা-কর্মীদের আটকান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা৷ অবশ্য মিনিটখানেকের মধ্যেই বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন পরিষদের নেতা-কর্মীরা৷ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পিছু নিতে দেখে নুরুলসহ পরিষদের নেতা-কর্মীরা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন৷ সেখানে কয়েক মিনিট অবস্থান করে স্লোগান দেওয়ার পর মিছিল নিয়ে কলাভবনের ফটক দিয়ে বেরিয়ে যান তাঁরা৷ পরে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগের দিকে চলে যান নুরুল ও পরিষদের নেতা-কর্মীরা৷ ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী তাঁদের পেছনে পেছনে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত যান৷ পরে নুরুল একটি প্রাইভেট কারে চলে গেলে পরিষদের নেতা-কর্মীরাও যে যাঁর মতো শাহবাগ ছাড়েন৷ তাঁদের পিছু নেওয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও তখন চলে যান।