গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠী শনাক্তকরণে বিদ্যমান মেডিকেল পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত’ অ্যাডভোকেসি মিটিংয়ে এসব দাবি উঠে। সভার আয়োজন করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা সংগঠন ‘সম্পর্কের নয়া সেতু’।

সভায় সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, জন্মগত লৈঙ্গিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের সঠিক চিকিৎসা দেশে রয়েছে। চিকিৎসায় জন্মগত ত্রুটি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। তবে এই চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অবশ্যই ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর হতে হবে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সে ছেলে না মেয়ে, সেটি ব্যক্তি নিজেই নির্ধারণ করবেন। তিনি আরও বলেন, কেন হিজড়ার সংখ্যা বাড়ছে, রাস্তায় দিনে দিনে হিজড়াদের অশোভন আচরণ বাড়ছে, কেন এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এখনো ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠী সম্পর্কীয় কোনো নীতিমালা ও আইন তৈরির সময় এ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখা হয় না। ভবিষ্যতে নতুন কোনো নীতিমালা তৈরির সময় এ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করব। একই সঙ্গে হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী শনাক্তকরণে মেডিকেল পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’

তেজগাঁও থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গাজী আহমেদ হাসান বলেন, ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠী শনাক্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি সুনির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে। তিনটি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে এটি শনাক্ত বা রূপান্তর করা হয়। তবে বাংলাদেশে এমন কোনো নীতিমালা করা হয়নি। যে কারণে হয়তো কোথাও কোথাও এই জনগোষ্ঠী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ‘সম্পর্কের নয়া সেতু’র সভাপতি জয়া সিকদার বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার, ট্রান্সম্যান, ট্রান্সওমেন ও হিজড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। এ জনগোষ্ঠীর মানুষ সমাজে নানাভাবে উপেক্ষিত হয়। বঞ্চিত হয় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে।

আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম, চিকিৎসক মোহাম্মদ শামসুল আহসান, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার সহযোগী পরিচালক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।