সভায় বক্তারা: ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে

‘বাংলাদেশে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক প্রাথমিক শিক্ষা: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার বক্তারা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পাঁচ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু ছিল অত্যন্ত শুভ উদ্যোগ। কিন্তু এ উদ্যোগ এখন স্তিমিত হয়ে গেছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দরকার, তারও অভাব দেখা যাচ্ছে।

‘বাংলাদেশে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক প্রাথমিক শিক্ষা: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আজ ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে এ সভা হয়। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশন এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কথাসাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন বলেন, মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার প্রতিটি শিশুর রয়েছে। সেই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে প্রথম ৫টি ভাষার (চাকমা, মারমা, ককবরক, গারো ও সাদ্রি) মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়। এতে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি।

কিন্তু এই শুভ উদ্যোগ আজ কিছুটা স্তিমিত দেখেছি। শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় অভিভাবকেরা জানান। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রম আরও উন্নত করা দরকার।

সভায় খাগড়াছড়ির বেসরকারি সংগঠন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসীবিষয়ক সুন্দর সুন্দর ধারা থাকলেও শিক্ষক পদায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে।’

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার বলেন, গুণগত মানের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা করতে পারলে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান হবে। সেই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের শুধু আন্তরিকতা নয়, সহযোগিতা দরকার।

সভা সঞ্চালনা করেন ফাল্গুনী ত্রিপুরা। আরও বক্তব্য দেন জাতীয় কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য এ কে এম রিয়াজুল হাসান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেসবাহ কামাল, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কর্মকর্তা ইরস রব্বাইনী, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী লেলুং খুমী প্রমুখ।