উত্তরায় দোতলার ডাইনিং রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত, ধারণা ফায়ার সার্ভিসের
রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস বলেছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
গত শুক্রবার সকালে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডে একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় শিশুসহ দুই পরিবারের ছয়জন মারা যান। ধোঁয়ায় সাতজন অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। গতকাল শনিবার তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আজ (গতকাল) ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গতকাল তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীসহ আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বাসিন্দারা গতকালও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে ফেরেননি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চল-৩-এর উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, দোতলার একাংশ ও তিনতলা মিলে ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকেন ভবনমালিক জুয়েল মোল্লা। দোতলা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের ডাইনিং রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তাই ওই কক্ষে থাকা জিনিসপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। সে তুলনায় রান্নাঘর কম পুড়েছে। ভেতরে কাঠের সিঁড়ি থাকায় আগুন সহজেই তিনতলা পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং ধোঁয়াও বেশি হয়।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ঘুরে দেখা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল মান্নান বলেন, ভবনটির মালিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার অনেক আগেই ভবনমালিক জুয়েল মোল্লা ব্যক্তিগত কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। আগুন লাগার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত বেরিয়ে যান।
তবে শুক্রবার ভবনটির দোতলার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভবনমালিক জুয়েল মোল্লা আগুন লাগার আগে সপরিবার বাসার বাইরে যান।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, আগুন লাগার পর পঞ্চম তলার বাসিন্দা এসকেএফের কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি, তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার ও দুই বছরের সন্তান কাজী ফাইয়াজ এবং ষষ্ঠ তলার বাসিন্দা ফল ব্যবসায়ী হারেছ উদ্দিন, তাঁর সন্তান রাহাব উদ্দিন ও ভাতিজি রোদেলা আক্তারকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাদের গেট তালাবদ্ধ ছিল। তাঁরা আবার বাসায় ফেরেন। কিন্তু বাসার প্রধান ফটক খোলা রেখে গিয়েছিলেন। এ অবস্থায় কালো ধোঁয়া সরাসরি বাসার ভেতরে ঢোকে। এতে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চল-৩-এর উপসহকারী পরিচালক আরও বলেন, ভবনটির অন্য সাতজন বাসিন্দা ছাদে উঠতে না পেরে সিঁড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাঁরাও অচেতন হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে ছাদের গেট কেটে অচেতন অবস্থায় মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। একাধিক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ফজলে রাব্বির পরিবারের তিনজন এবং হারেছের পরিবারের তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আগুন লাগার পর যাঁরা দরজা লাগিয়ে বাসার ভেতরে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ছাদের দরজা খোলা থাকলে সবার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় কেউ মামলা বা অভিযোগ করেননি। তবে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।