ঢাকায় পার্ক, পুকুর ও খেলার মাঠ সংরক্ষণে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে প্রশিক্ষণ
দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকা শহরের পার্ক, পুকুর ও খেলার মাঠ (৩পিজি) কমছে। নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য, শিশু ও যুবদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য এটা হুমকি। এ প্রেক্ষাপটে তরুণ ও যুবদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), গিফট ফর গুড এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করেছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানী ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহরের পার্ক, পুকুর ও খেলার মাঠের স্থানিক-কালিক ও পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণবিষয়ক বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির খবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ঢাকার পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ৩পিজি সংরক্ষণ এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তথ্যভিত্তিক স্থানিক-কালিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নগরের পরিবর্তন চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা সম্ভব।
প্রশিক্ষণে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মাহমুদা পারভীন। তিনি বলেন, পার্ক, পুকুর ও খেলার মাঠ কোনো বিকল্প নয়। এগুলো নগরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, মানসিক প্রশান্তি দেয়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং শিশু ও যুবদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৩পিজি সংরক্ষণে গবেষণা, নীতি, প্রযুক্তি এবং তরুণদের অংশগ্রহণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদা ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তরুণদের দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বৃদ্ধি করে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শহরের ৩পিজি সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
ক্যাপসের লিড রিসার্চার ইঞ্জিনিয়ার মারজিয়াত রহমান বলেন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া কার্যকর নীতি নির্ধারণ সম্ভব নয়। প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা এবং তরুণদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ৩পিজি সংরক্ষণকে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করতে পারে।
গিফট ফর গুডের প্রতিনিধি জুবায়ের ইসলাম তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন এবং পার্ক, পুকুর ও খেলার মাঠ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ক্যাপসের গবেষণা সহকারী মো. মাকসুদুর রহমান আধুনিক ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে অবস্থান ও সময়ভিত্তিক তথ্য (স্পেসিও-টেম্পোরাল ডেটা) সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং ভিজ্যুয়ালাইজেশন উপস্থাপন করেন। অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রতিবেদন তৈরির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
প্রশিক্ষণটি পার্ক, পুকুর ও খেলার মাঠ—এ তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার সমাধান ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির জ্ঞান লাভ করেন।
অংশগ্রহণকারী ফ্যাসিলিটেটর ও প্রেজেন্টাররা সবাই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ক্যাপসের অধীনে ইন্টার্নশিপে যুক্ত।