উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এহতেশামুল হক খান বলেন, ‘পরীক্ষার ভয় থাকা চলবে না, গণিতের ভয় থাকা চলবে না। গণিতকে ভালোবাসতে হবে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্য বই, ম্যাগাজিন পড়তে হবে। ফোনে বা গ্যাজেটে নয়, মাঠে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে হবে।’

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের গণিত ভীতি দূর করতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি আসলে কোনো পরীক্ষা না, ভয়কে জয় করার উৎসব।’ উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

উদ্বোধনী পর্বের পর সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে সোয়া এক ঘণ্টার পরীক্ষা পর্ব। পরীক্ষা শেষে মাঠে শুরু হবে গণিত ও বিজ্ঞানবিষয়ক নানা আয়োজন। সারা দিন গণিত ও বিজ্ঞানবিষয়ক স্পট কুইজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশ্নোত্তর পর্ব, রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা, বইমেলা, সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে। আজকের উৎসবে গান পরিবেশন করবে ব্যান্ড দল ‘গানপোকা’।

আজকে উৎসবের প্রথম দিনে মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা মহানগরের প্রাইমারি ও জুনিয়র ক্যাটাগরি প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। একইভাবে আগামীকাল উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এ উৎসবের আয়োজন করেছে ‘গণিত শেখা, স্বপ্ন দেখো’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত থাকবেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সহসভাপতি মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অধ্যাপক মোহিত কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য–প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর সৌমিত্র চক্রবর্তী, মাহমুদুল হাসান ও কামরুজ্জামান।

এবার উৎসবের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসে জাপানের চিবা শহরে অনুষ্ঠেয় ৬৪তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচন করা হবে। এবার গণিত উৎসবের জন্য সারা দেশ থেকে অনলাইনে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমে ‘অনলাইন বাছাই অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত হয়। বাছাই অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের নিয়ে এখন ২০টি শহরে ‘আঞ্চলিক গণিত উৎসব’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।