ওয়েবিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বক্তারা বলেন, দেশব্যাপী উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ মোকাবিলায় কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই এবং এখাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. আবদুল আলীম ওয়েবিনারে বলেন, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। সরকার যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা পাস করেছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

ওয়েবিনারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাইমারি হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থানা হেলথ কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. তাহমিনা সুলতানা বলেন, সীমিত পর্যায়ে কিছু কিছু কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, মাত্রাতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার এবং লবণ পরিহারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, উচ্চ রক্তচাপের সেবা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে অংশীজনদের নিয়ে অ্যাডভোকেসির কাজ করছে জিএইচএআই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ অফিসের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. ফারজানা আক্তার বলেন, নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কাজ করছে।

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যাসোসিয়েশনের (বাফনা) সাধারণ সম্পাদক বিপুল বিশ্বাস, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের প্রমুখ। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর সাদিয়া গালিবা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ এই ওয়েবিনারে অংশ নেন।