রাজধানীতে কুকুর নিধন বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি
রাজধানীতে কুকুর নিধন বন্ধের দাবিতে আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বিবেকবান নাগরিকবৃন্দ’–এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রাণী অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাধারণ মানুষ ও শিশুরা।
বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈসা খাঁ টিচার্স কোয়ার্টার এলাকা থেকে চেতনানাশক দিয়ে সাত–আটটি কুকুর তুলে নিয়ে কেরানীগঞ্জের জনমানবহীন স্থানে ফেলে দিয়েছে। কুকুরগুলোকে চেতনানাশক দিয়ে সরানো ও অপসারণ উভয়ই বেআইনি।
বক্তারা আরও বলেন, গত কয়েক দিন থেকে পুরান ঢাকার বেশ কিছু স্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু ব্যক্তি পিকআপ ভ্যানে কুকুর তুলে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন সরকার এলেই সমাজসেবার নামে প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি কুকুর নিধনের কাজ শুরু করে। এই কাজ বন্ধ করতে হবে।
কুকুর নিধনের পরিবর্তে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বন্ধ্যাকরণ ও টিকা প্রদানের মতো পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার টিমের সদস্য তিজুরী বিনতে আলমগীর বলেন, ঈসা খাঁ টিচার্স কোয়ার্টারের বিল্ডিং কমিটির আবেদনের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন কুকুরগুলো তুলে নিয়ে গেছে। টিচার্স কোয়ার্টার ছাড়াও আরও দুটি হলে প্রাধক্ষ্যের নির্দেশে কুকুর অপসারণের কাজ হয়েছে। কুকুরগুলোকে প্রতিকূল জায়গায় ফেলে আসা হয়েছে। ওই জায়গায় কোনো খাবার নেই। সেখানে গিয়ে তাঁরা একটা কুকুরও খুঁজে পাননি।
কুকুর নিধনের পাশাপাশি কুকুর অপসারণও বেআইনি জানিয়ে অভয়ারণ্য বাংলাদেশ প্রাণিকল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে কুকুর নিধন ও অপসারণ উভয়ই বেআইনি। সরকারকে এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখে বড় হলে শিশুরা পরে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে হবে।
মায়ের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাঈফ বলেছে, ‘কুকুরকে মেরে ফেলা হয়। গায়ে গরম তেল দেওয়া হয়। এগুলো যাতে বন্ধ করা হয় সে জন্য আমি এখানে এসেছি।’
রাজধানীর ফার্মগেট থেকে এসেছেন মিনু কুড়াইয়া। তিনি সরকারের কাছে পথকুকুরদের খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। এ ছাড়া কর্মসূচিতে প্রাণী অধিকারকর্মীরা তাঁদের কাজ করতে গিয়ে যেসব বাধার সম্মুখীন হন, সেসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।