জলবায়ুসহিষ্ণুতা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ড্রিংকওয়েল। পুরস্কার ঘোষণায় বলা হয়, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পানি সরবরাহ নিশ্চিতে কাজ করছে ড্রিংকওয়েল।

ড্রিংকওয়েলকে মনোনয়ন দিয়েছিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

পুরস্কার বিজয়ী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সামুদ্রিক খাবার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আনোভা টেকনিক্যাল সার্ভিসেস, কোভিড-১৯–এর সময়  কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাওয়া ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কাজ করা গ্যাপ ইনক, ইন্ডিয়া এবং কোস্টারিকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করা ইন্টেল, কোস্টারিকা। আগামী ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানটনি জে ব্লিঙ্কেন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক নীতি-নৈতিকতার মান বাড়াতে কাজ করছে, তাদের স্বীকৃতি দিতে এসিই পুরস্কার দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে৷ ২৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পুরস্কার দিচ্ছে।

যেভাবে এটিএমে পানি বিক্রি শুরু

ঢাকা ওয়াসার পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানি নিয়ে রাজধানীবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১৯ সালে  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করতে ব্যর্থ। ৯১ শতাংশ গ্রাহক খাবার পানি ফুটিয়ে পান করেন। পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে বছরে ৩২২ কোটি টাকার গ্যাস খরচ হয়।

নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কম দামে নিরাপদ পানি সরবরাহ করতে ২০১৭ সালের মে মাসে প্রথম এটিএম উদ্বোধন হয় মুগদায়। যুক্তরাষ্ট্রের ড্রিংকওয়েলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এসব বুথ বসানোর কাজ শুরু হয়। গ্রাহকদের চাহিদা দেখে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তারা বুথ বসানো শুরু করে। ভূগর্ভ থেকে উত্তোলিত পানি পরিশোধনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এসব এটিএমে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটিএমের পানিতে দুর্গন্ধ নেই, ফুটিয়ে পান করার বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। খেতেও ভালো আর দামও কম। তাই দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

এটিএমে কার্ড যন্ত্রে ঢোকানোর পর নির্ধারিত বোতাম চাপলে পানি পড়তে শুরু করে। পানি নেওয়া শেষে কার্ডটি সরিয়ে ফেললে পানি আসাও বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি লিটার পানির জন্য নেওয়া হচ্ছে ৪০ পয়সা।

ওয়াসা এবং ড্রিংকওয়েলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওয়াটার এটিএম বুথের সংখ্যা ২৮৫। বর্তমানে ড্রিংকওয়েলের এটিএম বুথের কার্ডের গ্রাহকসংখ্যা ২ লাখ ৭৮ হাজার। প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ লিটার পানি বিক্রি হচ্ছে।

ওয়াটার এটিএম বুথ প্রকল্পের পরিচালক ও ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রামেশ্বর দাস প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে শহরের নিম্নবিত্ত শ্রেণির লোকজনকে বিশুদ্ধ পানি দেওয়ার লক্ষ্যে এটিএম বসানো হয়েছিল। এটিএমের পানির মানের কারণে এখন সব শ্রেণির লোকজনই গ্রাহক হচ্ছেন। সর্বশেষ ৩ মাসেই গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ৩০ হাজার।

৫০০ এটিএম বসানোর পরিকল্পনা

বিভিন্ন বুথের অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু নিম্নবিত্তই নয়, মধ্যবিত্ত এবং অনেক উচ্চবিত্তও এখন ওয়াটার এটিএম বুথের গ্রাহক হয়েছেন। দিন দিন পানির চাহিদা ও গ্রাহক বাড়ছে তাদের।

পানি নিতে আসা সাধারণ মানুষ বলছেন, এখন আর তাঁদের পানি ফোটানোর কষ্ট করতে হয় না। বুথের পানি দিয়েই তাঁদের চলছে। তবে বুথের বিষয়ে খুব বেশি প্রচার নেই বলে অনেকে জানেন না এই সুবিধা সম্পর্কে।

ওয়াসা ও ড্রিংকওয়েল বলছে, যেসব এলাকায় পানির সংকট আর পানিতে গন্ধ ও দূষণ রয়েছে, সেসব এলাকায় গ্রাহক বেশি। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে মুগদা, কদমতলা, মিরপুর, ফকিরাপুল ও পুরান ঢাকা।

সম্প্রতি মহাখালী টিবি গেট ও কল্যাণপুর এলাকার এটিএম বুথে গিয়ে দেখা যায়, মেশিনে কার্ড দিয়ে পানি নিচ্ছেন গ্রাহকেরা। নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা  বশির উদ্দীন বলেন, এই বুথের পানি ফোটাতে হয় না৷ পানির দাম কম হওয়ায় খরচও কম।

ড্রিংকওয়েলের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদ্দাম হোসেন রাজধানীতে এটিএম বুথ কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিনিয়ত এটিএম বুথের গ্রাহকসংখ্যা বাড়ছে৷ ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০টি এটিএম বুথ চালুর বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

গ্রাহক কীভাবে হওয়া যায়  

যেকোনো একটি ওয়াটার এটিএম বুথে গিয়ে দায়িত্বরত অপারেটরকে বললেই কার্ড পাওয়া যায়৷ এ জন্য সঙ্গে নিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও ৫০ টাকা (ফি)।

এটিএম কার্ডে একবারে সর্বোচ্চ ৯৯৯ টাকা আর সর্বনিম্ন ১০ টাকা রিচার্জ করে পানি নেওয়া যায়। কার্ড রিচার্জও করে দেন বুথ অপারেটর। তবে এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও রিচার্জের পদ্ধতি চালু হয়েছে।