তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলেরই পর্যবেক্ষণ ও অংশ নেওয়া উচিত। আর যেকোনো সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন।

মুস্তাফা ওসমান তুরান বলেন, বাংলাদেশে অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের সুযোগ আছে। তবে দুঃখজনকভাবে এটি এখন হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। তবে নির্বাচনের  জন্য বাংলাদেশই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে, কোনো বিদেশি শক্তি নয়। আর আগামী নির্বাচনে যে দলই জয়লাভ করুক, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না।

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চাই। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচার বিষয় নয়, এটা কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ও। বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে ড্রোন, টহল নৌযান  ইত্যাদি কিনেছে। সামরিক সরঞ্জাম তৈরি যৌথ উদ্যোগেও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তুরস্কও বাংলাদেশের মতো  শরণার্থী সংকট মোকাবিলা করছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমরা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও সমর্থন করছি। বিশেষ করে  ওআইসি, আইসিজেতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন ও সহযোগিতা করছে তুরস্ক।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। এটা নিয়ে আমি প্রায়ই গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হই। তবে সেই ভুল-বোঝাবুঝির অবসানও হয়েছে। আমরা সে সময় বন্ধুদেশ হিসেবে শুধু আমাদের মতামত দিয়েছিলাম। এখন আমাদের দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা রয়েছে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা যেকোনো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি। কূটনৈতিক সংলাপে বিশ্বাস করি। রাশিয়া-ইউক্রেন  উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছি আমরা। টেকসই শান্তির লক্ষ্যে আমরা সংলাপের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান চাই।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি শুধু পোশাকশিল্প খাতের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। আইসিটি, ওষুধশিল্প খাত বাংলাদেশের রপ্তানির বিকল্প হতে পারে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।