সংঘাত এড়াতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জগন্নাথের শিক্ষকদের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন। আজ রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনেছবি: প্রথম আলো

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবিতে আজ রোববার মানববন্ধন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল পৃথকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে দুই সংগঠনের শিক্ষকেরাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বলেছেন। দাবি পূরণ হয়েছে জানিয়ে সংঘাত এড়াতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন নীল দলের শিক্ষকেরা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সাদা-নীলে বিভক্ত না হয়ে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাদা দলের শিক্ষকেরা।

নীল দলের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চায় না। তাদের সব দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। এক দফা দাবি কখনো শিক্ষার্থীদের হতে পারে না। এটা রাজনৈতিক দাবি। আমরা ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশে নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই। শিক্ষার্থীদের উচিত ক্লাসে ফিরে আসা।’

সাদা দলের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দীন বলেন, ‘সব সময় আমরা সন্তানের পাশে। শিক্ষার্থীরা আছে বলেই আমরা শিক্ষক। তারা আমাদের সন্তান। তাদের সুরক্ষায় সাদা-নীলে বিভক্ত না হয়ে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সময়ের দাবি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়া ও চিকিৎসা খরচ বহন করায় উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে রইছ উদ্দীন বলেন, যেসব শিক্ষার্থী মিথ্যা মামলায় এখনো কারাগারে আছে, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, পুলিশ কারও মৃত্যুই কাম্য নয়। বাসাবাড়ি ও সম্পদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যের ওপর দোষ না চাপিয়ে প্রত্যেককে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে। সংযমের মাধ্যমে সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সংঘাত-সংঘর্ষের পর ১৭ জুলাই রাত থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল বন্ধ করার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। এইচএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা বারবার পেছানো হয়েছে।