নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল তাঁরা

‘সম্পূর্ণা বাংলাদেশ’–এর সম্মাননা পেয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারীরা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে, ১৬ সেপ্টেম্বরছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে।

বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন নাজমুন নাহার। অন্য দেশগুলোতেও তিনি বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে চান। আনজুমান আরা সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক ছিলেন ৩০ বছর। বর্তমানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসি খানের ছেলে না হয়ে তিন মেয়ে হওয়ায় আত্মীয়রা কথা বলাই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই তিন মেয়েই এখন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

নাজমুন নাহার, আনজুমান আরা, ফেরদৌসি খানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল এমন নারীদের সম্মাননা দিয়েছে ‘সম্পূর্ণা বাংলাদেশ’ নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আজ বুধবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ফিনা সম্পূর্ণা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ শিরোনামের এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন চিত্রনায়িকা নূতন। তবে তিনি এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা ও ক্রিকেটার ফারজানা হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

সম্মাননাপ্রাপ্ত অন্য নারীরা হলেন সাংবাদিকতায় প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক মানসুরা হোসাইন, নাট্য অভিনয়ের জন্য সাফা কবির, রন্ধনশিল্পে রহিমা সুলতানা, আইনজীবী হিসেবে দোলা রহমান, উপস্থাপনায় রুহানি সালসাবিল, নৃত্যে ফারহানা চৌধুরী, মডেল হিসেবে তৌহিদা তাসনিম ও ইনফ্লুয়েন্সার বারিশা হক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, ‘সম্পূর্ণা বাংলাদেশ’ ৮০ জন নারী উদ্যোক্তা নিয়ে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে। ওই বছর থেকেই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনের নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারীদেরও সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। সম্মাননাপ্রাপ্তদের ক্রেস্ট ও ফুল দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নারীনেত্রী খুশী কবির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সফল নারীদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা দেখে অন্য নারীরাও অনুপ্রাণিত হবেন। তিনি সন্তান লালনপালনসহ ঘরের কাজের যে অর্থনৈতিক মূল্য আছে, তা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন।

খুশী কবির বলেন, নারী-পুরুষ কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুরুষের মনমানসিকতা পরিবর্তন না হলে সমাজ পরিবর্তন হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত দে জানান, পুরুষ হয়ে কেন নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন, তা নিয়ে শুরুতে অনেকে ট্রল করত। তাঁর মতে, নারীদের সংগ্রামে পুরুষেরা পাশে থাকলে নারীদের চলার পথটা অনেক সহজ হয়। তিনি নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি স্বর্ণলতা দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আহমেদ বক্তব্য দেন। সম্মাননাপ্রাপ্তরা তাঁদের চলার পথের সংগ্রামের পাশাপাশি সফলতার গল্পগুলো বলেন।