মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে বানানো হবে আধুনিক ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যালয় নগর ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা। ১২ মার্চ ২০২৬ছবি: ডিএসসিসির সৌজন্যে।

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দীর্ঘদিনের প্রচলিত মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলকে একটি আধুনিক ‘ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’ (ডিআরসিপি) হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য আর আবর্জনা হয়ে থাকবে না, বরং তা রূপান্তরিত হবে মূল্যবান সম্পদে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে সংস্থাটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সঙ্গে কোরিয়াভিত্তিক কারিগরি প্রতিষ্ঠান ‘বি অ্যান্ড এফ কোম্পানি’র এক মতবিনিময় সভায় এই মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) উপস্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের পুরোনো ১০০ একর এলাকা থেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করা হবে। এখান থেকে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন আহরণ করে ৮১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ল্যান্ডফিলে সৌরশক্তির প্যানেল বসিয়ে আরও ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় প্রতিদিন ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ ও ‘থ্রি-আর’ (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনর্চক্রায়ন) নীতি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।

নগর ভবনে কোরীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যের সঙ্গে করমর্দন করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। ১২ মার্চ ২০২৬
ছবি: ডিএসসিসির সৌজন্যে।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় ল্যান্ডফিলে একটি ‘ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি’ (এমআরএফ) স্থাপন করা হবে। সেখানে প্রতিদিন ৩০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট সার, বায়োফুয়েল ও ইকো-ব্রিকস (পরিবেশবান্ধব ইট) উৎপাদন করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে। এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, সীমিত জনবল ও বাজেট দিয়ে শতভাগ পরিচ্ছন্নতাসেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এই রিসোর্স পার্ক বাস্তবায়িত হলে ঢাকাকে প্রকৃত অর্থেই ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সভায় কোরীয় কারিগরি দলের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির উৎপাদিত সম্পূর্ণ বর্জ্যকেই সম্পদে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।