রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেল নিতে নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার পাম্পে এসেছেন চালক আলমগীর হোসেন। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে তেল নিতে রাত দুইটার দিকে লাইন দিতে হয়েছিল, আজ বুধবার তেমনটি করতে হয়নি। পাম্পে এসে ১৫ মিনিটের অপেক্ষায় তেল পেয়েছেন তিনি।
আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এর আগে রাত দুইটায় লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ১১টার দিকে এই পাম্পে তেল পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা ভয়াবহ, খুবই কষ্টের। আজ তেমনটি নেই। ভোগান্তি কমেছে, এখন লাইন ছোট হয়েছে, তেল পাওয়া যাচ্ছে আগের মতোই।’
আলমগীর হোসেনের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেল নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার পাম্পে গাড়ির লাইন দেখে। আজ বেলা আড়াইটার দিকে পাম্পটিতে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল ১৭টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ২৭টি বাইক, ১৩টি ছোট পিকআপ, দুটি বড় ট্রাক ও তিনটি বাস।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক দিন আগেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় ছিল লম্বা লাইন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের অপেক্ষা। এরপর দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে বাইকের জন্য তেল নিতে এসেছেন চালক রানা আহমেদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলা যায়। গত কয়েক দিনের মতো দীর্ঘ সারি নেই। সহজেই তেল নেওয়া যাচ্ছে বলে আজ এসেছি।’
রাজধানীর উত্তরা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে তেল নিতে এসেছেন চালক আমিরুল ইসলাম। পাম্পে এসে ১৫ মিনিটের মতো অপেক্ষার পর তেল পান তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এমন অবস্থা থাকলে আমরা একটু স্বস্তিতে থাকতে পারি।’
নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টারের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন সরবরাহ স্বাভাবিক। আমরা ২৪ ঘণ্টাই তেল সরবরাহ করছি। “ফুয়েল পাস” দেখেই তেল দেওয়া হচ্ছে। চালকদের ফুয়েল পাস–সংক্রান্ত সহায়তার জন্য আমাদের এক কর্মী কাজ করছেন।’
লাইন কমেছে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও। সপ্তাহখানেক আগেও রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা গাড়ির দীর্ঘ সারি পৌঁছেছিল জাহাঙ্গীরগেট পার হয়ে সিভিল এভিয়েশন স্কুল পর্যন্ত। বাইকের সারি ছিল বিমানবাহিনীর অফিসার্স মেস পর্যন্ত। আজ পাম্পটিতে তেমন লাইন নেই। সেখানে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ১৩টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ৪২টি মোটরসাইকেল, তিনটি ছোট ট্রাক ও একটি বাসকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন রেজাউল করিম। তিনি বারডেম হাসপাতালে স্বজনকে দেখতে যাওয়ার পথে পাম্পের লাইন কম দেখে তেল নিতে দাঁড়িয়ে যান। রেজাউল প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘ লাইন হলে দাঁড়াতাম না। ছোট লাইন দেখে দাঁড়িয়েছি। যেহেতু সময় কম লাগছে, তাই তেল নিয়ে যাচ্ছি। এখন আর আগের মতো ভোগান্তি নেই।’
রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেল নিতে তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে এসেছেন চালক মো. আরিফ হোসেন। ১০ মিনিট সময় অপেক্ষা করেই তেল পান তিনি। আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। “ফুয়েল পাস” আছে, সহজেই চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে।’
ফার্মগেট থেকে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা আহসান রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘তেল পেতে ১০ মিনিটের মতো লেগেছে।’