রেলের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়মিত প্রতিবাদ কর্মসূচি করছেন মহিউদ্দিন রনি৷ আজ রোববার বিকেল চারটার পর যথারীতি মহিউদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে যান৷ বিকেল পাঁচটার দিকে রেলস্টেশনে যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী৷ কিন্তু বাইরের ফটক আগে থেকেই বন্ধ থাকায় রেলস্টেশনের ভেতরে তাঁরা ঢুকতে পারেননি৷ এ সময় জাফরুল্লাহ একটি হুইলচেয়ারে করে মহিউদ্দিনদের সঙ্গে ফটকেই অবস্থান নেন৷

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারের উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মহিউদ্দিন রনি টিকিট কালোবাজারির প্রতিবাদ করছেন৷ স্টেশনমাস্টারের কত ভাগ-বাঁটোয়ারা আছে, আমি জানি না৷ তাঁরা এত ভয় পাচ্ছেন কেন, নিজেকে অন্ধকারে লুকিয়ে রাখছেন কেন? তাঁকে অসম্মান করা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি আমাদের লক্ষ্য নয়৷ আমরা রেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চাই, যাতে দেশবাসী একটু নিরাপদে ও আনন্দে রেলে ভ্রমণ করতে পারেন৷ এটা (ফটক বন্ধ করা) কারা করে? ফ্যাসিস্ট সরকার করে? কেন ফটক বন্ধ করে রেখেছেন? আমার হাতে কি অস্ত্র, লাঠি বা বন্দুক আছে?’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমাদের পাঁচজন তাঁর (স্টেশনমাস্টার) সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চাই৷ আমাকে আটকে রেখে তিনি বোকামির পরিচয় দিচ্ছেন৷ আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দিনের পর দিন না খেয়ে যুদ্ধ করেছি৷ একাত্তরের পর ফিরে আসব, তা আমরা ভাবিনি৷ সুতরাং অনুগ্রহ করে স্টেশনমাস্টার মহোদয় আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না৷ তাতে আপনার লাভ হবে না৷’ এ সময় প্রয়োজনে ৪৮ ঘণ্টা ফটকের বাইরে অবস্থান করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান জাফরুল্লাহ৷

অবস্থানের একপর্যায়ে মহিউদ্দিন রনি ও তাঁর সমর্থকেরা কমলাপুর রেলস্টেশনের বাইরের ফটকে ধাক্কা দিতে থাকেন৷ তখন তাঁদের থামিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্টেশনমাস্টার মহোদয়, আপনি লুকিয়ে থেকে রেহাই পাবেন না৷ আপনাকে একটা নমুনা দেখানো হলো৷ আর একটা ধাক্কা দিলেই আপনার এই লৌহশিকল উড়ে যাবে৷’
আজ রাত পৌনে আটটায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং মহিউদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা কমলাপুর রেলস্টেশনের কলাপসিবল ফটকের বাইরে অবস্থান করছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন