আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটির কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে মেয়র আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা মহামারির সময়ে মানুষকে চিকিৎসা দিতে আমরা ডিএনসিসির মার্কেটকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর করেছিলাম। হাসপাতালে রূপান্তরিত না করে মার্কেট চালু করলে ২০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা যেত। তবে টাকার দিকে না তাকিয়ে মানুষের সেবার দিকে গুরুত্ব দিয়ে ২৫৮টি দোকানের বরাদ্দ বাতিল করেছি। সেখানে এক হাজার শয্যার হাসপাতালটি নির্মাণ করেছি। এখানে ২১২টি আইসিও বেড রয়েছে। বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা যেহেতু কিছুটা কম, তাই এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছি।’

মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার আহ্বান জানান আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা সিটি করপোরেশন থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছি। অভিযান পরিচালনা করছি।

দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু বাড়িতে বা নির্মাণাধীন ভবনে লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা করে আসার কিছুদিন পর অভিযান চালালে আবারও লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। এখন থেকে আর ছাড় নেই। কোনো ভবনে দ্বিতীয়বার অভিযানে লার্ভা পেলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

জনগণের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডিএনসিসির কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালকে জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। ৫৪টি ক্লিনিকে জনসাধারণ প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ডিএনসিসি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। এ নিয়ে এআইআইবির (এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক) সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ৫৪টি ক্লিনিক নির্মাণে এআইআইবি অর্থায়ন করতে রাজি হয়েছে। প্রকল্প প্রণয়ন করে দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান মেয়র আতিকুল ইসলাম।  

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল এখন ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য তৈরি রয়েছে। এক হাজার শয্যার মধ্যে ছয়জন কোডিভ রোগী আলাদাভাবে সেবা নিচ্ছেন। এ হাসপাতালে ১০৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। আরও প্রায় ৪০০ শয্যা ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান, ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিকুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটির সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক প্রমুখ।