একটা দেশ কতটা সভ্য, তা জাদুঘর দেখলে বোঝা যায়: সংস্কৃতিমন্ত্রী

জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ফিতা কেটে ‘সভ্যতায় কৃষি ও প্রকৃতি’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শাহবাগ, ঢাকা। ১৮ মে ২০২৬ছবি: জাতীয় জাদুঘরের সৌজন্যে

একটা দেশ কতটা সভ্য ও আধুনিক, তা সে দেশের জাদুঘর দেখলে বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাদুঘরে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের কোনো ভেদাভেদ নেই।

ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামসের (আইকম) নির্ধারিত এবারের জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিভক্ত বিশ্বের সেতুবন্ধনে জাদুঘর’ (মিউজিয়ামস ইউনাইটিং আ ডিভাইডেড ওয়ার্ল্ড)। এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।

আজ সোমবার সকালে বেলুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব। এ সময় জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

পরে জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘সভ্যতায় কৃষি ও প্রকৃতি’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

আলোচনা সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, জাদুঘর কেবল অতীত ঐতিহ্যের সংরক্ষণাগার নয়; এটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের ধারক ও বাহক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময় ও যুগোপযোগী। জাদুঘর কেবল নিদর্শন প্রদর্শনের স্থান নয়, এটি একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক পরিসর; যেখানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হয়। একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়তে শিশুদের সংস্কৃতিমনস্ক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

সকালে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবসহ অন্য কর্মকর্তারা। শাহবাগ, ঢাকা। ১৮ মে ২০২৬
ছবি: জাতীয় জাদুঘরের সৌজন্যে

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম বলেন, জাদুঘর একটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ ও বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার অনন্য কেন্দ্র। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে জাদুঘরকে আরও জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, জাদুঘর দিবস উদ্‌যাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে নতুনভাবে অনুধাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শাহবাগ, ঢাকা। ১৮ মে ২০২৬
ছবি: জাতীয় জাদুঘরের সৌজন্যে

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, ‘দিবসটি উদ্‌যাপনের মাধ্যমে আমরা জাদুঘরকে জনগণের আরও কাছে পৌঁছে দিতে চাই। জাদুঘর যেন জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি বিনিময় এবং সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’

দিবসটি উপলক্ষে ‘শিশু-কিশোরদের চোখে জাদুঘর: আনন্দে-আনন্দে আঁকি’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে জাদুঘর প্রাঙ্গণ।

দিনব্যাপী আয়োজনে আরও ছিল বিশেষ প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।