গুলিস্তানে আবার হকারমুক্ত সড়কের ঘোষণা

রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাতে গতকাল ও আজ উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসিছবি: ডিএসসিসির সৌজন্যে

রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ বৃহস্পতিবার ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এ ঘোষণা দেন।

প্রশাসক বলেন, এসব মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত এক দশকে গুলিস্তানে সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সাবেক দুই মেয়রের সময়েও হকার উচ্ছেদ ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দখলমুক্ত করা যায়নি।

আজ ডিএসসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসক এক ঘণ্টার বেশি সময় পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মূল সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম তদারক করেন। বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তাঁরা স্বেচ্ছায় এসব মূল সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

উচ্ছেদ অভিযান তদারকি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। ২৪ সেপ্টেম্বর
ছবি: ডিএসসিসির সৌজন্যে

ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, তবে রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্ব পাশের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা রেখে নির্ধারিত স্থানে নিবন্ধিত নির্দিষ্টসংখ্যক হকার বসতে পারবেন। নির্ধারিত স্থান, সময়, সংখ্যা ও নিবন্ধনের বাইরে যত্রতত্র হকার বসে জনভোগান্তি তৈরির সুযোগ নেই। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

হকারদের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবির বিষয়ে প্রশাসক বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগেও বারবার হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ

২০১৬ সালে তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সময়ে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সে বছরের জুনে তিনি সড়কে হকার বসতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। অক্টোবরেও অভিযান চালাতে গিয়ে হকারদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে গুলিস্তানের হকারদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেন সাঈদ খোকন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার আগে সড়ক ও ফুটপাতে হকার বসতে পারবেন না। সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং কর্মদিবসে নির্ধারিত সময়ের পর তাঁদের ব্যবসার সুযোগ রাখা হয়। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ১৫ জানুয়ারি থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। হকারদের বাধা ও বিক্ষোভের মধ্যেও অভিযান চালানো হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের আমলেও গুলিস্তানের সড়ক হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গুলিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সেখানে হকার বসা নিষিদ্ধ করা হয়। তৎকালীন মেয়র জানিয়েছিলেন, নগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।

চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বরও গুলিস্তানের সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ করে ডিএসসিসি। ওই অভিযানে ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর তিন সপ্তাহ পর গতকাল বুধবারও অভিযান চালানো হয়। আজ আবার মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

আজকের পরিদর্শনে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।