যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ নেতা খুন

নিহত আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাবু
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাসীর ছুরিকাঘাতে আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাবু (৩৫) নামের আওয়ামী লীগের এক নেতা খুন হয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ৪০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ১৪ নম্বর ইউনিটের সভাপতি ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আবু বকরের রাজনৈতিক সহকর্মী সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সোমবার শহীদ ফারুক সড়কের ফুটপাতে কিছু স্থানীয় যুবক খুদে দোকানিদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছিলেন। এই কাজে আবু বকর বাধা দিলে যুবকদের সঙ্গে তাঁর কথা–কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার দিকে ওই যুবকেরা আবু বকরের পেটে ছুরি মেরে পালিয়ে যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে আবু বকরকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে রাতে আবু বকরের স্বজনেরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন তাঁরা।

আবু বকরকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের লাঠির আঘাতে আহত হন মো. রুবেল নামের স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। তিনিও চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, আবু বকরকে বাঁচাতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

এ বিষয়ে জানতে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কিছু যুবক ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ দিতে গেলে আবু বকর তাঁদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকেরা তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবু বকর সপরিবার যাত্রাবাড়ী এলাকার টানপাড়ায় থাকতেন। তাঁর তিন ছেলে রয়েছে। তাঁর বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার নান্দায়। রাজনীতির পাশাপাশি কাঁচামালের ব্যবসা করতেন তিনি।