ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্যদের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্য ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার রাজধানীর দয়াগঞ্জে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান বিতরণের জন্য ডিএসসিসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তাঁরা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাঁদের অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিকভাবে কিংবা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না।
বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী কোনো জাতিগত বা সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করেন না উল্লেখ করে মীর শাহে আলম আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সব নাগরিকের সমান অধিকারের আদর্শেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। অতীতে কোনো মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসে সরাসরি কথা বলেননি। বর্তমান সরকার সেই ধারা বদলাতে চায়। সরকার ও সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করে তাঁদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসেছেন জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সকালে ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তখনই তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা পেয়েই তাঁরা দ্রুত দয়াগঞ্জে আসেন।
অনুষ্ঠানে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দুই সম্প্রদায়ের পূজা উদ্যাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনসংকট সমাধানের বিষয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ডিএসসিসির প্রস্তাবিত ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে এবং দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজধানীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি স্থানে ২টি এবং অন্য স্থানে ১৭টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’
বর্তমানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জরাজীর্ণ আবাসনের পরিবর্তে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রশাসক। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং তাঁদের জন্য একটি মন্দির নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের নেতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।