ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন নেই, তবে কোথাও কোথাও আছে রেশনিং
ঈদের আগের দিন রাজধানীর সড়কে গাড়ির চাপ ছিল কম, ফিলিং স্টেশনগুলোতেও ছিল না কয়েক দিন আগের মতো দীর্ঘ লাইন। তবে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাননি ক্রেতারা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার অস্থির করে তোলার পর দেশে সংকট এড়াতে সরকার কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তারপর ফিলিং স্টেশনগুলোয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা গাড়ির লাইন দেখা দিয়েছিল। ঈদের আগে ১৬ মার্চ সেই সীমা তুলে নেওয়া হয়।
ঈদের আগের দিন আজ শুক্রবার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়নি, স্বাচ্ছন্দ্যে তেল নিতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে কিছু ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা বলেছেন, ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ কম থাকায় রেশনিং চালু রেখেছেন তাঁরা।
সকাল ১০টার সময় রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। এই সময় তেল নিতে আসা সাকিব নামে এক মোটরসাইকেলচালক তেল বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ফিলিং স্টেশনটির কর্মচারী মোফাজ্জল হোসেন তাঁকে বলেন, ৫০০ টাকার বেশি দেওয়া যাবে না।
সরকার রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার পরও তা চালু রাখা নিয়ে মোফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, জরুরি গাড়িগুলোয় তারা চাহিদামতো তেল দিচ্ছেন। মোটরসাইকেলচালকদের কেউ যখন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ঈদে বাড়িতে যেতে চাইছেন, তখন তাঁদের তেলের ট্যাংকি ভরে দিচ্ছেন। কিন্তু ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ কম থাকায় তাঁরা কম করে দিচ্ছেন।
আরামবাগ মোড়ে অবস্থিত মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছে। এই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মো. রাকিব হোসেন জানান, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছেন তাঁরা।
মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের সময় গিয়ে দেখা যায় এটি বন্ধ। ফিলিং স্টেশনটির মালিক আবদুস সালাম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই তেল শেষ হয়ে গেছে। ডিপো থেকে তাঁদের যে অল্প তেল দেওয়া হয়, তা দিয়ে বেশিক্ষণ চলে না। আজ তেল আনতে ডিপোতে গাড়ি গেছে, আসার পর তারা বিক্রি শুরু করবেন।
দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায় তেলের জন্য যানবাহনের তেমন কোন চাপ নেই। ফিলিং স্টেশনটির কর্মচারী মো. মোস্তফা জানান, গ্রাহকদের চাহিদার আলোকে তেল দিচ্ছেন তাঁরা।