সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিষদের আহ্বায়ক চিকিৎসক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকায় সাংস্কৃতিক চর্চা হয় এই পার্ককে ঘিরে। এই একটি জায়গা, যেখানে আমরা একটু নিশ্বাস নিতে পারি। এ ছাড়া আর কোনো নিশ্বাস নেওয়ার জায়গা নেই।

পাশেই যে ধূপখোলা মাঠ ছিল, সেটিও দখল করে, এক অংশে মার্কেট বানিয়েছে। আর এখন পার্কের অর্ধেক অংশ দখল করে খাবারের দোকান বানানো হয়েছে।’

আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানিয়েছি। বাহাদুর শাহ পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পার্কের ভেতর থেকে স্থায়ী খাবার দোকান সরানোর দাবির প্রেক্ষাপটে আমরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্যসচিব আক্তারুজ্জামান খান। তিনি বলেন, গত বছরের ১০ নভেম্বর সংগ্রাম পরিষদ ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকসহ ১৬ জনের প্রতিনিধিদল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে দেখা করে বাহাদুর শাহ পার্কের ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা করার বিষয়টি জানান।

আক্তারুজ্জামান খান বলেন, ‘মেয়র বিষয়টিতে সম্মতি দেন। আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, কর্তৃপক্ষ জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করে অযৌক্তিক, অবিবেচনাপ্রসূত, অপরিণামদর্শী ও ঐতিহ্য ধ্বংসকারী সিদ্ধান্তে অনড় থেকে ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে এই পার্কে রেস্তোরাঁ চালু করার সুযোগ দিয়েছে।

রেস্তোরাঁর চুলার শিখায় পার্কের গাছপালা ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে এর মাধ্যমে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে রিয়াজউদ্দিন বলেন, ‘প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মেয়র জানিয়েছিলেন, পার্কের দোকান থেকে কিছু টাকা পাবে সিটি করপোরেশন। তাই আরও এক বছর দেখতে চান। পরে পার্কের পরিবেশ ও পরিস্থিতি তুলে ধরা হলে মেয়র পার্ক স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

পার্কের বেষ্টনী নির্মাণ ও ১৮৫৭ সালের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি মেয়রের কাছে জানিয়েছিল ওই প্রতিনিধিদল। তবে এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছে বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ১২টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট নাগরিক, ছাত্র, রাজনৈতিক, সংস্কৃতি সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক, কর্মকর্তা–কর্মচারী, বুদ্ধিজীবী, লেখকসহ অন্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।