এনসিপির ফেলানী অ্যাভিনিউ অভিমুখী মিছিল আটকে দিল পুলিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির ফেলানী অ্যাভিনিউ অভিমুখী মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। আজ বুধবার ঢাকার শাহজাদপুরেছবি: প্রথম আলো

সীমান্তে ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে গুলশানের ফেলানী অ্যাভিনিউ অভিমুখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী যাত্রা’ আটকে দিয়েছে পুলিশ।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্তিতে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আজ বুধবার এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল।

আজ বিকেলে বাড্ডার শাহজাদপুরে জড়ো হয়ে গুলশানের ফেলানী অ্যাভিনিউ অভিমুখে মিছিল শুরু করেন এনসিপির নেতা–কর্মীরা। ওই অ্যাভিনিউয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়।

এনসিপির নেতা–কর্মীরা তখন কুড়িলমুখী সড়কে দাঁড়িয়ে স্লোগান ও বক্তব্য দেন। এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’, ‘কাঁটাতারের ফেলানী—আমরা তোমায় ভুলিনি’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন—রুখে দাও জনগণ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।

পুলিশের বাধায় সামনে এগোতে না পেরে সড়কে রিকশায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন এনসিপির নেতারা। পরে সেখানে কর্মসূচি শেষ করেন।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া কেউ নাক গলানোর চেষ্টা করলে বাংলাদেশের আপামর জনতা দাঁতভাঙা জবাব দেবে। এ নির্বাচন মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘ আগামীর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিটি নেতাকর্মী জীবন দিয়ে চেষ্টা করবে।’ তিনি আজকের দিনকে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফেলানী দিবস ঘোষণা করার দাবি জানান।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিচারের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। আর বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোনো দেশ নাক গলানোর চেষ্টা করলে জনগণ তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পাঁচ ঘণ্টা তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের পঞ্চদশ বার্ষিকীতে ফেলানী অ্যাভিনিউ অভিমুখে জাতীয় নাগরিক কমিটির ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী যাত্রা’। আজ বুধবার ঢাকার শাহজাদপুরে
ছবি: প্রথম আলো

অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পরিবারসহ ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন ফেলানীর বাবা। পরে দেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে দেশে ফেরার সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরব হওয়ার পর ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছিল। তবে রায়ে খালাস পান অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ। পরে বিজিবির আপত্তিতে ২০১৪ সালে আবার বিচার হলেও সেখানেও খালাস পান তিনি।

এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর মাধ্যমে ভারতের উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। মামলাটির এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

আরও পড়ুন