নর্দমার মধ্যে লাল গোলাপের গাছ লাগিয়ে লাভ হবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক
রাজধানী ঢাকায় নোংরা-আবর্জনায় ভরা খালের পাশে সৌন্দর্যবর্ধন প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘একটা নর্দমার মধ্যে ফুটফুটে লাল গোলাপের একটা গাছ লাগিয়ে কোনো লাভ হবে না।’ আগে খাল ও খালের পাড় এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে ঘুরে বেড়াতে পারেন বলেও জানান তিনি।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় আফতাবনগর–বনশ্রীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া বেগুনবাড়ী খালের ওপর নতুন নির্মিত একটি পদচারী-সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে খালটি পরিষ্কার করে জায়গাটিকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আপনাদের দাবি যাতে এই জায়গা পর্যটন হিসেবে করা যায়, এখানে যাতে মানুষ ঘুরতে পারে, এমন পরিবেশ অন্তত সৃষ্টি করা। আমরা ঢাকাবাসীকে ক্লিন ঢাকা এবং গ্রিন ঢাকা উপহার দিতে কাজ করছি। তবে আমরা তখনই গ্রিন ঢাকা করতে পারব, যখন আমরা ক্লিন করে শেষ করতে পারব।’
খাল সংস্কারের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করবে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, এমনভাবে খালটি সংস্কার করা হবে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে সেখানে হাঁটাচলা করতে পারেন এবং কিছুটা সময় কাটাতে পারেন।
এ জন্য শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সমাজের আওতাভুক্ত যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদেরও সচেতন থাকতে হবে। এ কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৫৪টি ওয়ার্ডের বিশাল এলাকার কথা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, এত বড় শহর শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। ভবিষ্যতে ওয়ার্ডের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১৩ কোটি টাকায় পদচারী-সেতু
ডেমরাগামী রামপুরা-বনশ্রী সড়কের ফরাজী হাসপাতাল অংশে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে পদচারী-সেতুটি নির্মাণ করেছে ডিএনসিসি। স্টিলের কাঠামোর ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব ও টাইলস বসিয়ে তৈরি সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার এবং প্রস্থ ৩ দশমিক ৮০ মিটার।
এত দিন এই এলাকার বাসিন্দাদের খাল পার হতে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিদিন এই পথে চলাচল করতে হয়। সেতুটি চালু হওয়ায় খাল পারাপারের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খালে হচ্ছে আরও দুটি সেতু
পদচারী-সেতুটির পাশাপাশি বেগুনবাড়ী খালের ওপর যানবাহন ও পথচারী চলাচলের জন্য আরও দুটি সেতু নির্মাণ করছে ডিএনসিসি। দুটি সেতুই মূলত যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থাও থাকবে।
এর মধ্যে পদচারী-সেতুটি থেকে প্রায় ৮০০ মিটার পশ্চিমে আইডিয়াল স্কুলের পাশে ৩৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৫ দশমিক ৪০ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, যার কাজ শেষ হয়েছে ৩৫ শতাংশ। আর পূর্ব দিকে মেরাদিয়া বাজারের কাছে ৪৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৫ দশমিক ৪০ মিটার প্রস্থের অন্য সেতুর কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
স্টিলের কাঠামোর এই তিনটি সেতু নির্মাণে ডিএনসিসির মোট ব্যয় হচ্ছে ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস।