মেয়র আরও বলেন, এডিসের পাশাপাশি কিউলেক্স মশাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোথাও পানি বা ময়লা জমতে দেওয়া যাবে না। ময়লা বা পানি জমে থাকলে অথবা এডিসের লার্ভার উৎস পেলে কাউন্সিলররা ছবি তুলে লোকেশন উল্লেখ করে ডিএনসিসির অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেবেন। ওই ছবি ও লোকেশন দেখে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।

ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাউন্সিলরদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ দিয়ে মেয়র বলেন, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে স্মার্ট হকার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সেখানে এখন সপ্তাহে পাঁচ দিন নির্দিষ্ট হকাররা বিকেল চারটার পর থেকে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। ঢাকা উত্তর সিটির অন্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। নির্ধারিত ফুটপাত ব্যতীত অন্য কোথায় হকাররা ব্যবসা করতে পারবেন না। ফুটপাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করতে হবে।

অনুমোদনহীন হাটবাজারগুলো সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হবে জানিয়ে মেয়র আরও বলেন, নগরে বিভিন্ন এলাকায় ছোট–বড় অসংখ্য হাটবাজার রয়েছে। এগুলোর অনুমোদন নেই। ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত ওই বাজারগুলো সিটি করপোরেশন থেকে অধিগ্রহণ করা হবে। করপোরেশনই ওই বাজারগুলোর সঠিক তদারকি ও পরিচালনা করবে।

খাল রক্ষায় নগরবাসীকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খাল উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু উদ্ধারকাজে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ভবনের পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনের সংযোগ সরাসরি নালায় কিংবা খালে দেওয়া হয়েছে। এতে খাল দূষিত হচ্ছে। তাই পয়োবর্জ্যের লাইন উন্মুক্ত নালায় অথবা খালে দেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে মালিকবিহীন কুকুর ও অন্য পোষা প্রাণীর চিকিৎসাসেবায় পশু হাসপাতাল এবং গাছের চিকিৎসার জন্য বৃক্ষ হাসপাতাল করার ঘোষণাও দেন মেয়র। সভার শুরুতে সি-৪০ সিটিস ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস অ্যাওয়ার্ড-২০২২ অর্জন করায় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা মেয়রকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সভা শেষে বদলি হওয়া ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল হামিদ মিয়া এবং সিস্টেম অ্যানালিস্ট তুহিনুল ইসলামকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সভায় ঢাকা উত্তর সিটির সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, কাউন্সিলর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।