৪ নভেম্বর ঢাকা থেকে নিখোঁজ থাকার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন হত্যা মামলা করেছেন। ডিবি ওই মামলার তদন্ত করছে। তবে এখনো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি তারা।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের আজকের মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফারদিন নূরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁরা শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। ইতিমধ্যে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের প্রায় দুই সপ্তাহ হতে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে খবরে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রকৃত হত্যাকারী চিহ্নিত হয়নি এবং হত্যার কারণ এখনো পরিপূর্ণরূপে উদ্‌ঘাটিত হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ওপর তাঁদের আস্থা আছে। তাঁদের বিশ্বাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে ফারদিন হত্যার তদন্ত চালিয়ে দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘ফারদিন আমাদের সহপাঠী, আমাদের ভাই। তাঁর অকালপ্রয়াণ আমাদের করেছে ব্যথিত। তাঁর পরিবারের অসহায়ত্ব আমাদের করেছে ক্ষুব্ধ। হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করা এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা আবারও দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় আমরা ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফারদিনের পরিবারের পাশে থাকব। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে ফারদিনের মতো আর কোনো মেধাবী প্রাণ অকালে ঝরে পড়বে না।

৮ নভেম্বর বুয়েটে ফারদিনের জানাজা হয়েছিল। সেদিন তাঁর হত্যার প্রতিবাদে এবং দ্রুত তদন্তের দাবিতে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে তাঁর সহপাঠীরা মানববন্ধন করেছিলেন। সেদিনে সেখানে তাঁর বাবাও ছিলেন। তিনি  প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছিলেন, ‘আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’