বইমেলায় নিখোঁজ ‘নিয়মনীতি’

‘নেটবই’, মানহীন বইয়ে ছেয়ে গেছে বইমেলা। ভুলে ভরা শিশুতোষ বই বিক্রি হচ্ছে দেদার।

নানা বয়সী বইপ্রেমীরা একুশের বইমেলায় আসেনফাইল ছবি

একুশে বইমেলায় নিয়মনীতি মানার যেন কোনো তোয়াক্কা নেই। নেটবই, ভারতীয় লেখকদের বই তো আছেই, এক প্রকাশনীর স্টলে অন্যান্য প্রকাশনীর বইও বিক্রি হচ্ছে দেদার।

মেলায় প্রকাশিত শত শত নতুন বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন বহু বছরের। সেই সঙ্গে নিম্নমানের কাগজ, যেনতেন ছাপা, বাঁধাই এবং সম্পাদনা ও বানান সংশোধন ছাড়া প্রকাশনার আধিক্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সৃজনশীল প্রকাশকেরা। উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে একুশের বইমেলা অচিরেই পথ হারাবে। বিপন্ন হয়ে পড়বে দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা তথা মেধা-মনন ও সৃজনশীলতার চর্চা।

গত দুই দিনে বইমেলা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেল। কিছু স্টলের যেমন নীতিমালা মেনে চলার বিশেষ গরজ নেই, তেমনি নীতিমালা মানতে বাধ্য করাতে মেলা কর্তৃপক্ষেরও কার্যকর তৎপরতা নেই। এত বড় একটা মেলা, তার একটা নীতিমালা থাকা দরকার, সে কারণেই যেন নীতিমালাটি করা।

সব মিলিয়েই একুশের মেলাকে তার সঠিক পথে চালিত করতে হলে মেলা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
মুনতাসীর মামুন, লেখক ও গবেষক

বইমেলাবিষয়ক নীতিমালার ৭.১ ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকগণ কেবল বাংলাদেশে মুদ্রিত ও প্রকাশিত বাংলাদেশের লেখকদের মৌলিক/অনূদিত/সম্পাদিত/সংকলিত বই বিক্রি করতে পারবেন।’ ৭.৩ ধারায় বলা হয়েছে ‘প্রকাশকগণ নেটবই, নোট, গাইড এবং পাইরেটকৃত বই সংরক্ষণ, প্রদর্শন বা বিক্রি করতে পারবেন না।’ তা ছাড়া অন্য প্রকাশনীর বই পরিবেশক হিসেবে কেবল একটি প্রকাশকের স্টলে বিক্রি করা যাবে, একাধিক স্টলে নয়। প্রকাশকেরা এসব নীতি ও নিয়ম মেনে চলবেন অঙ্গীকার করেই স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন।

এ ছাড়া ১১.১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যেসব প্রকাশনীর মোট ১০০টি বই অথবা ২০২১ থেক ২০২২ সালের মধ্যে ২৫টি মানসম্মত বই থাকবে এবং নতুন প্রকাশকদের ক্ষেত্রে গত পাঁচ বছরে ৫০টি সৃজনশীল সাহিত্য, বিজ্ঞান বা গবেষণাধর্মী বই থাকবে, কেবল তারাই মেলায় স্টল বরাদ্দ পাবে।’ একাডেমি নিজেই এই নীতি মানে না। যাদের একটিও নিজস্ব বই নেই, এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দ পেয়েছে।

অমর একুশে বইমেলা
ছবি: প্রথম আলো

সৃজনশীল প্রকাশকেরা বলছেন, বইমেলার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সৃজনশীল ও মননশীল লেখকদের বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশের প্রকাশনাশিল্প ও মেধা–মননের চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু ক্রমে ক্রমে একুশের বইমেলা সে লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ভুঁইফোড় প্রকাশকদের নেটবই, মানহীন বইয়ে মেলা ছেয়ে গেছে। এতে ক্রেতারা প্রতারিত ও পেশাদার প্রকাশকেরা মেলার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে মেলা ও সৃজনশীল প্রকাশনা অবশ্যম্ভাবী হুমকির মুখে পড়বে।

গত বছরের সুপারিশ অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নিলে এবার নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটত না। মেলার শেষে কোনো পর্যালোচনা হয় না। সবকিছু দায়সারাভাবে চলছে। মেলার পরিবেশটাও এবার আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।
মোহাম্মদ গফুর হোসেন, টাস্কফোর্সের সদস্য

লেখক ও গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রথম আলোকে বলেন, কেউ নীতিমালা ভঙ্গ করলে শুধু সতর্ক করলে কোনো কাজ হবে না। পরের বার তাদের স্টল বরাদ্দ বন্ধ করতে হবে। এমন কঠিন ব্যবস্থা কার্যকর করলে অনিয়ম কমবে। প্রকাশকদেরও ঐক্যে আসতে হবে। প্রতিবার মেলার শেষে একটা পর্যালোচনা করা দরকার, যা কখনো করা হয়নি।

নম্বর নেই, নীতিও নিখোঁজ

এবার মেলায় মোট ৬০১টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে আছে ৪৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ৭৩৬ ইউনিট স্টল আর ৩৮টি প্যাভিলিয়ন। একাডেমি মাঠে ১১২টি প্রতিষ্ঠানের ১৬৫ ইউনিট স্টল। শিশুতোষ বই নিয়ে পৃথক কর্নার করা হয়েছে উদ্যানের দক্ষিণ প্রান্তে। নিয়ম অনুসারে প্রতিটি স্টলের সাইনবোর্ডে স্টলের নম্বর লেখা থাকার কথা। কিন্তু স্টলগুলোতে তা নেই। কেন এত দিনেও একাডেমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এ অনিয়ম ধারা পড়ল না, তা এক বিষম ধাঁধাই বটে।

অনিয়মের মতো অনৈতিক কাজও হচ্ছে বিস্তর। সরাসরি ভারতে ছাপা, ভারতীয় লেখকদের বই বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক প্রকাশনীর স্টলে একাধিক প্রকাশনীর বই রয়েছে। কিছু বই তাঁরা রেখেছেন পরিবেশক হিসেবে। তবে পরিবেশক নন, এমন বইও রয়েছে বিস্তর। যেমন ছোটদের মেলা নামের একটি প্রকাশনীর স্টলে দেখা গেল অ্যাবাকাস, দ্য রয়েল পাবলিশার্স, ইকরা পাবলিশার্স, ঈসা প্রডাক্টস, গাজী প্রকাশন, নাঈম বুকস, মেমোরি পাবলিকেশনস, এই সাত প্রকাশনীর প্রচুর বই।

দ্য পপ আপ ফ্যাক্টরি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে দেখা গেল, নয়াদিল্লির প্রায়োরিটি পাবলিকেশনস, মনোজ পাবলিকেশন, ড্রিমল্যান্ড পাবলিকেশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর বই। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বই বাড়ি প্রকাশনী। এদের স্টল এবার মেলার দক্ষিণ প্রান্তের মূল অংশে। তানিয়া বুক, ঘুড়ি প্রকাশন, বই প্রকাশন, রেজা পাবলিকেশন, ইকরা পাবলিশার্স, মেমোরি পাবলিকেশনস, ঈসা প্রডাক্টস ও গাজী প্রকাশন—এই আট প্রকাশনার ডজন ডজন বইয়ে তাদের স্টল।

বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, গত বইমেলাতেও একই কাজ করেছিল এই ছোটদের মেলা ও বই বাড়ি। গত বইমেলায় গুরুতরভাবে নীতিমালা ভঙ্গকারী ৪২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করেছিল টাস্কফোর্স। তার মধ্যে এই দুটি প্রতিষ্ঠানও ছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বই বাড়ি একাধিক প্রকাশনার নিম্নমানের বই বিক্রি করছে। টাস্কফোর্স প্রথমবার তাদের কঠোরভাবে সতর্ক ও পরে স্টল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। বাস্তবে তারা নির্বিঘ্নে মেলা চালিয়ে গেছে। এবারও তারা স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। আগের মতোই কাজ অব্যাহত রেখেছে।

একই ভাষায় একই রিপোর্ট টাস্কফোর্স দিয়েছিল ছোটদের মেলা, ঝিলমিল, ঘুড়ি, ফুলঝুরি, রাবেয়া বুক হাউস এসব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে। এবারও তাদের কেউ টাস্কফোর্সের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেনি। উপরন্তু বাংলা একাডেমি এবার তাদের কাউকে কাউকে পুরস্কার হিসেবে আগের চেয়ে বড় আকারের স্টল বরাদ্দ দিয়েছে।

শিশুদের বইয়ের মধ্যে সুপ্ত পাবলিকেশনের বই রয়েছে অনেক প্রকাশনীর স্টলে। এসব বইয়ের মধ্যে আছে বর্ণমালা শেখার বই, ছবি আঁকা ও রং করার বই, কমিকস, রূপকথা ইত্যাদি। শনিবার সুপ্তর প্রকাশক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে কথা হলো তাঁর স্টলে। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তাঁদের বই বাংলাবাজার শোরুম থেকে পাইকারিতে বিক্রি হয়। এসব বই ঢাকাসহ সারা দেশের লাইব্রেরিতে যায়। মেলায় যদি কোনো প্রকাশক তাঁদের বই বিক্রি করেন, সেটা দেখার দায়িত্ব মেলা কর্তৃপক্ষের, তাদের নয়।

মেলার শিশুতোষ বইগুলো প্রায় অভিন্ন আকার-প্রকারের। কেবল নামে কিছু পার্থক্য। যেমন শব্দশিল্প প্রকাশনের বর্ণপরিচয়ের বইয়ের নাম মায়ের কাছে প্রথম পড়া। ছোটদের জ্ঞানবিজ্ঞান একাডেমী থেকে প্রকাশিত বইটিও প্রায় একই রকম। নামটি হলো মায়ের কাছে প্রথম পাঠ। এই দুটি প্রকাশনীর স্টলেই আলেয়া বুক ডিপো, শামীম প্রকাশনীসহ অন্যান্য প্রকাশনীর বইও বিক্রি হচ্ছে।

এসব বই উল্টেপাল্টে দেখলেই বোঝা যায়, বইগুলোর নাম বা ভেতরের দু–একটি পাতায় কিছু এদিক-ওদিক করে ছাপা। আর এই এদিক-ওদিক করতে গিয়ে একজনের মাথা অন্যজনের ধড়ে বসার ঘটনাও ঘটেছে। শাহজী প্রকাশনীর স্টলে দাদুর মুখে মজার গল্প নামের বইটির প্রচ্ছদে লেখকের নাম রয়েছে সানজিদা রহমান। মলাট খুলেই প্রথম পাতায় লেখকের নাম লেখা জি এম সাগর। কেমন করে এ দশা হলো জানতে চাইলে প্রকাশক শরীফ শাহজী নিরুত্তর রইলেন।

ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা আহমদ পাবলিশিং হাউসের প্রবীণ প্রকাশক মেজবাহ উদ্দিন আহমদ শিশুতোষ বইয়ের এমন বেহাল সম্পর্ক মন্তব্য করতে গিয়ে বললেন, শিশুদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো ভালো বইয়ের সংখ্যা আসলেই খুব কম। সাহিত্যের গুণমানের বিষয়টি ছাড়াও ভালো ছাপা, নির্ভুল বই কটা প্রকাশিত হচ্ছে? সবাই কমিকসের বই ছাপছে। পাঠাভ্যাসটাই তৈরি হচ্ছে না।

কলকাতার বই ও ‘নেটবই’

কলকাতার লেখক কল্লোল লাহিড়ীর ইন্দুবালা ভাতের হোটেল বইটি ছেপে বিক্রি করছে একাধারে মেধা অন্বেষণ প্রকাশ এবং বাতিঘর প্রকাশনা নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, দেবেশ রায়, ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী, জহর সেন মজুমদারসহ কলকাতার লেখকদের বহু বই এখানে ছাপিয়ে মেলায় বিক্রি করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কোনো স্টলে কলকাতার লেখকদের বড় আকারের ছবিও টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।

নেটবই আসলে কোনগুলো? চিরায়ত সাহিত্য, এর–ওর নামে বিদেশি কালজয়ী সাহিত্যিকদের বইয়ের অনুবাদ কম দামের কাগজে, ছোট অক্ষরে ঠাসাঠাসি করে ছাপা একধরনের বই দেখা যায় অনেক স্টলে। প্রকাশকেরা এ ধরনের বইকে বলেন নেটবই। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস নামের একটি বই আছে শব্দশিল্প নামের প্রকাশনীর স্টলে, দাম ৩৫০ টাকা। মেলায় এটাই শতকরা ২৫ ভাগ কমিশনে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই বই বাইরে বিক্রি হয় গায়ের দামের অর্ধেক বা তার চেয়েও কমে। ফলে ক্রেতারা এসব বই কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ও বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গনি বললেন, সমিতির সদস্য ২৩০। অথচ মেলায় অংশ নিচ্ছে ছয় শতাধিক প্রতিষ্ঠান। ক্রমে ক্রমে একুশের বইমেলা তার মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে কাজ হয় না

বইমেলায় নীতিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, তা তদারক করা এবং সেই সূত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে থাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, কপিরাইট অফিস, শাহবাগ থানা ও পুস্তক প্রকাশকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স। এ টাস্কফোর্স গত বছর নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে একাডেমির ভেতরে ১১টি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২০টি এবং শিশুকর্নারে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর সতর্ক, এমনকি স্টল বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। এই ৪২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি স্টলে তাদের নিজেদের কোনো বই–ই ছিল না। অথচ এবারও তারা স্টল পেয়েছে।

টাস্কফোর্সের সদস্য মোহাম্মদ গফুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের সুপারিশ অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নিলে এবার নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটত না। মেলার শেষে কোনো পর্যালোচনা হয় না। সবকিছু দায়সারাভাবে চলছে। মেলার পরিবেশটাও এবার আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে মেলা কমিটির সদস্যসচিব বাংলা একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন) কে এম মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, টাস্কফোর্সের সুপারিশ কার্যকর হচ্ছে না, এ অভিযোগ ঠিক নয়। অভিযুক্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে কড়াকড়িভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

ভাবতে হবে নতুন করে

বইমেলা কি প্রকৃতই পথ হারাচ্ছে? কী করা উচিত, জানতে চাইলে লেখক ও গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রথম আলোকে বললেন, যেভাবে এখন মেলা চলছে, তাতে মূল উদ্দেশ্য সফল হবে না। মেলা করা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের দায়িত্ব। এটা বাংলা একাডেমির দায়িত্ব বা কাজ কোনোটিই নয়।

তাদের কাজ গবেষণা করা। তাঁর মতে, প্রকাশক, লেখক, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, কপিরাইট অফিস ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় একটি সভা করে ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন উল্লেখ করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা করার প্রতি উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। বইমেলা এখান থেকে সরিয়ে আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া উচিত। যাঁদের বই কেনার প্রয়োজন, তাঁরা সেখানে ঠিকই যাবেন। সব মিলিয়েই একুশের মেলাকে তার সঠিক পথে চালিত করতে হলে মেলা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।