জ্বালানি তেলের লাইন ছোট হয়ে আসছে
জ্বালানি তেলের জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, সে লাইন এখন অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। চালকেরা বলছেন, আগের তুলনায় অপেক্ষার সময় কমেছে, তবে সরবরাহ আরও বাড়লে ভোগান্তি কমবে।
বেলা দুইটার দিকে রাজধানীর শহীদবাগে অবস্থিত রাজারবাগ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ তেলের জন্য এই স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের যত লম্বা লাইন দেখা গেছে, সেটি আজ অনেকটাই ছোট। আগে তেলের জন্য মোটরসাইকেলের লাইন ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে বিএনএন হাসপাতালের সামনে হয়ে ঘুরে শান্তিনগর সড়কের মাঝামাঝি পৌঁছে যেত। সেটি আজ ফিলিং স্টেশন থেকে ঘুরে প্রধান সড়কের পাশের লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই ফিলিং স্টেশনে গত বৃহস্পতিবার ২২৩টি মোটরসাইকেল ও ১৬৬টি প্রাইভেট কারকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছিল। আর আজ ১০২টি মোটরসাইকেল ও ৯২টি প্রাইভেট কারকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।
এই ফিলিং স্টেশনের তেল নিতে এসেছিলেন মোটরসাইকেলচালক কামরুল হাসান। তিনি প্রথম অলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আজ কম ভোগান্তিতে তেল নিতে পেরেছি। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার আগে তেল নিতে পারতাম না, কিন্তু আজকে মাত্র দুই ঘণ্টার ভেতরে তেল নিতে পেরেছি। যদিও এখানে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। আরেকটু বেশি তেল হলে এক সপ্তাহ আর পাম্পে আসা লাগত না। সরকার যদি তেল সরবরাহের পরিমাণ বাড়ায় তাহলে ভোগান্তি আরও কমে যাবে।’
এই ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার দ্বীন ইসলাম জানান, আগের মতোই সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন পেয়েছেন তাঁরা। অতিরিক্ত যে ২০ শতাংশ অকটেন দেওয়ার কথা বলছে বিপিসি, সে রকম তেল তাঁরা পাচ্ছেন না।
বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর আরামবাগে অবস্থিত মেসার্স এইচকে ফিলিং স্টেশন ঘুরেও গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের ছোট লাইন দেখা গেছে। আগে যেখানে ফিলিং স্টেশনটির সামনে থেকে মোটরসাইকেলের লাইন ফকিরাপুল মোড় অতিক্রম করত, আজকে সেখানে তার অর্ধেক রয়েছে। প্রাইভেট কারের লাইনও প্রায় একই রকম। এই ফিলিং স্টেশনেও গত বৃহস্পতিবার ৩৯৪টি মোটরসাইকেল ও ৩২৯টি প্রাইভেট কার লাইনে দেখা গেছে। আজ দেখা গেছে ১৩৯ মোটরসাইকেল ও ১২৭টি প্রাইভেট কার।
এই ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে তিন ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেলচালক হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার সময় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। আজকে তো ভিড় কম, আরও আগে তেল পেয়ে যেতাম। এই পাম্পে কিছু লোক লাইনের বাইরে থেকে এসে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আর এতে সহায়তা করছে পাম্পের কিছু লোকজন।’
এইচকে ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক রবিউল হাসান জানান, আগামীকাল শুক্রবার বন্ধ বলে আজ তাঁরা ১৮ হাজার লিটার তেল পেয়েছেন।
বিপিসি যে ২০ শতাংশ অকটেন অতিরিক্ত সরবরাহ করছে, সেটি পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রবিউল হাসান বলেন, ‘২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের চাহিদার হিসাব করে আমাদের তেল দেওয়া হচ্ছে। মাস শেষে গড় হিসাব করলে তেল কিছুটা বেশি হবে।’
বেলা তিনটার দিকে তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লাইন কম দেখা গেছে মতিঝিল মোড়ে অবস্থিত করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনেও। এই স্টেশনে গত রোববার ৪০৯টি মোটরসাইকেল ও ২৭৯টি প্রাইভেট কারকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেলেও আজ ১৫৪টি মোটরসাইকেল ও ৮৭টি প্রাইভেট কারকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।
এই ফিলিং স্টেশনে দুই ঘণ্টা ধরে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ার চালক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, এর আগে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এসেছেন। আগের তুলনায় লাইন অনেকটা কম দেখেছেন। পরিচিত একজনের কাছে জানতে পেরেছেন, এই ফিলিং স্টেশনে লাইন গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটা কম। সে জন্য এখানে চলে এসেছেন।
২০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চলতি মাসের বিক্রির ওপর ভিত্তি করে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেন সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।