জুলাই জাগরণ সিজন-২ শুরু ১ আগস্ট, শিশুদের জন্য ৪ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা। মধুর ক্যানটিন, ৩১ জুলাইছবি: প্রথম আলো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিশুদের জন্য চার দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’ আয়োজন করছে সাইমুম শিল্পগোষ্ঠী। আগামী ১ থেকে ৪ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে এই সাংস্কৃতিক উৎসব।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

সংবাদ সম্মেলনে সিবগাতুল্লাহ বলেন, এবারের আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা এবং ডকুফিল্ম প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মঞ্চনাটক ও আবৃত্তি পরিবেশিত হবে, যার একটি বড় অংশই শিশুরা উপস্থাপন করবে। গত বছরের মতো এবারও ‘আয়নাঘর’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনী থাকবে, তবে সেটি আরও বিস্তৃত ও বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হবে।

সিবগাতুল্লাহ জানান, শিশুদের জন্য বিশেষ ‘কিডস জোন’ থাকবে, যেখানে তারা খেলাধুলা করতে পারবে। প্রতিদিন বিকেল থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্থানগুলো নিয়ে থাকবে ‘মিনিয়েচার জোন’। এ ছাড়া স্মৃতি ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে ‘কবরস্থান কর্নার’।

সিবগাতুল্লাহ বলেন, অনেক শিশু এখনো বায়োস্কোপ দেখার সুযোগ পায়নি। তাদের জন্য থাকবে ‘জুলাই বায়োস্কোপ’। এ ছাড়া ‘জুলাইয়ের ধ্বংসযজ্ঞ প্রদর্শনী’ ও ‘বখতিয়ার থেকে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হবে। ‘আইকনিক কর্নার’-এ আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত অসংখ্য শহীদের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত ক্যারিকেচারের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এবারের আয়োজনের লক্ষ্য হলো জুলাই আন্দোলনে শিশুদের অবদান, ত্যাগ ও স্মৃতিকে জাতির সামনে তুলে ধরা। শিশুদের চোখে দেখা জুলাইয়ের গল্প, তাদের স্বপ্ন, ভয়, সাহস ও আত্মত্যাগ শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

সিবগাতুল্লাহ আরও বলেন, জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে দেশের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুস্থ ও স্বকীয় সাংস্কৃতিক ধারাকে এগিয়ে নেওয়াও ছিল সেই আকাঙ্ক্ষার অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সেই আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। বরং পুরোনো সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বিভিন্ন চক্রান্ত ও অপপ্রচারের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অর্জনকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এসব শক্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে বিতর্কিত করতে এবং ফ্যাসিবাদী বয়ান পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।