বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করে, একটি বিশেষ চক্র হীন উদ্দেশ্য ও স্বার্থ চরিতার্থের জন্য রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করেছে। সংগঠনটি বলছে, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য কিংবা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশের বয়ান বিশ্বাসযোগ্য নয়।
‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক: চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে’ ব্যানারে এক মানববন্ধনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা এ কথা বলেন। আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন শেষে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিলও করেন।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, বাসুদেব ধর ও জয়ন্তী রায়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবী, সাংবাদিক পুলক ঘটক প্রমুখ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুরের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নয়, দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করছে। শুধু তা-ই নয়, এ ঘটনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করেছে বলে নেতারা মনে করছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, অনতিবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা।
দেশে আগের মতোই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলমান রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তারা বলেছে, অতীতের ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে পত্রপত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সারা দেশে ৪১টি (আংশিক) সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে হত্যা ৬টি, ধর্ষণ ২টি। মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ১০টি। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ জন। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ৫টি। বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ১০টি। জোরপূর্বক জমি দখলের ঘটনা ২টি এবং অন্যান্য ৪টি ঘটনা ঘটেছে।