আর যেন কোনো স্বৈরাচারী শাসক বাংলাদেশে জন্ম না নেয়: রোবায়েত ফেরদৌস

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসছবি: প্রথম আলো

বক্তৃতা, আবৃত্তি, মঞ্চনাটক, সংগীত, নৃত্য ও থিয়েটার ইনস্টলেশনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন করল ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসমাজ’। আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে আমরা স্মরণ করছি এই কারণে, আর যেন কোনো স্বৈরাচারী, এ রকম মানুষ হত্যাকারী, টাকা পাচারকারী শাসক বাংলাদেশে জন্ম না নেয়।’

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের শিরোনাম—‘লাল জুলাই: কথা ক আওয়াজ উড়া’। আয়োজক ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসমাজ’।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে একটি পরিবেশনা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে
ছবি: সাজিদ হোসেন

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণ ছিল। আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও মঞ্চনাটক পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরাও এতে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে এখনো লেখা রয়েছে ‘যা ঘটেছে, তা আর কখনো না ঘটুক’। জুলাইয়ের ৩৬ দিনে ২ হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ৩১ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। ৪ হাজার মানুষকে অন্ধ করা হয়েছে—কারও এক চোখ, কারও দু চোখ। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, ১৭৩ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

একটি দেশের সরকার তার দেশের জনগণকে এই মাত্রায় খুন করতে পারে, নিকট ইতিহাসে এমন প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে খালি করে জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। হিসাব করলে দেখা যায়, এই টাকা দিয়ে ১০৫টি পদ্মা সেতু করা সম্ভব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে একটি পরিবেশনা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে
ছবি: সাজিদ হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে আমরা স্মরণ করছি এই কারণে, আর যেন কোনো স্বৈরাচারী, এ রকম মানুষ হত্যাকারী, টাকা পাচারকারী শাসক বাংলাদেশে জন্ম না নেয়। সে কারণে নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হত্যার বিচার করতে হবে।’

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, এই হত্যার বিচার যদি না হয়, তাহলে পুরো পৃথিবীতে আদালত আর বিচার বলে কিছু থাকে না। কাজেই জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি রাখছেন তাঁরা।

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি রাষ্ট্রের প্রত্যাশার কথা জানান রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রে সবার অংশগ্রহণ থাকবে। তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশ কেবল মুসলমানের না, কেবল বাঙালির না। এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের চেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁরা। তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশ বহু জাতির, বহু ধর্মের, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পরিচালনার যে বহুত্ববাদী নীতি—সংস্কারের মধ্যে, সংবিধানের মধ্যে, পরবর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে এটির প্রতিফলন তাঁরা চান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে একটি পরিবেশনা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে
ছবি: প্রথম আলো

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহমান মৈশান। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবতী, তিসাস জিয়া প্রমুখ।