ব্যাগ ও মুখোশ আনা যাবে না, অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে পাঁচটার মধ্যে

নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে
ছবি: জনসংযোগ দপ্তরের সৌজন্যে।

এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপন করা হবে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে। নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষরা, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, অফিসপ্রধানেরা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে।

উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদ্‌যাপনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নববর্ষ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশাকে আহ্বায়ক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম শেখকে সদস্যসচিব করে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়।

কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পয়লা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদের তৈরি মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ করা হবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকেল পাঁচটার পর কোনোভাবেই প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে। নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না।

নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোনো ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড়সংলগ্ন ফটক ও পলাশী মোড়সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন।

নববর্ষের দিন ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের বিপরীতে রাজু ভাস্কর্যের পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগতরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য চারুকলা অনুষদের বিপরীতের ছবির হাটের ফটক, বাংলা একাডেমির বিপরীতের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট–সংলগ্ন ফটক ব্যবহার করতে পারবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হওয়ার পথ হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট–সংলগ্ন ফটক, রমনা কালীমন্দির–সংলগ্ন ফটক ও বাংলা একাডেমির বিপরীত দিকের ফটক ব্যবহার করা যাবে।

ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম এবং অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প থাকবে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন এলাকা, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্বরের আশপাশের এলাকা ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে।

সভায় নববর্ষের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিং করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।