ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘আমরা নিয়মিত লেক পরিষ্কার করছি। খাল ও ড্রেন পরিষ্কার করছি। কিন্তু বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্যের লাইন খালে গিয়ে প্রতিনিয়ত পানিকে দূষিত করছে। দূষণের ফলে খালে মাছের চাষ করতে পারছি না, সেখানে মশার চাষ হচ্ছে। এটি আর হতে দেওয়া যাবে না।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু কুড়িল লেকে নয়, পর্যায়ক্রমে সব কটি লেকে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোতে মাছ চাষ করার বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব লেকের পানি দূষিত। সেখানে মাছ মারা যাবে। অতএব, আগে লেকের পানি দূষণ থেকে রক্ষা করতে হবে।’

পয়োবর্জ্যের সংযোগ লেকে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ার করেন ডিএনসিসি মেয়র। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের টিম বাড়ি বাড়ি গিয়ে পয়োবর্জ্যের লাইন পরিদর্শন করছে। পয়োবর্জ্যের লাইন ড্রেনে বা খালে পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পশু পালন, মৎস্য চাষ ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সবাইকে পশু পালন, মৎস্য চাষ ও কৃষির প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। চাষযোগ্য জমিতে চাষ করতে হবে। জলাশয়, লেক, পুকুরে মাছ চাষ করতে হবে।

জলাধার ভরাট করে ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন ডিএনসিসি মেয়র। তিনি বলেন, ‘কুড়িল ফ্লাইওভারসংলগ্ন জলাধার ভরাট করে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণকাজ শুরু হলে আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটি বন্ধ করে দিই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লাউতলা খাল উদ্ধার করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করেছি। শহরে জলাধার, লেক ভরাট করে ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। রাতের আঁধারে জলাধারে বালু ভরাট করে ভবন নির্মাণ করলে জনগণ সেটি মানবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলাধার ও লেকগুলোকে বাঁচাতে হবে।’

সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, শহরকে, দেশকে মনে–প্রাণে ভালোবাসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। নালা বা নর্দমার পানিতে কিন্তু এডিস মশার জন্ম হয় না। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এডিসের লার্ভা জন্মায়। তাই নিজেদের বাসাবাড়িতে ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, চিপসের খোলা প্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের খোলা পাত্র, ছাদ বা অন্য কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জমে থাকা স্বচ্ছ পানি ফেলে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে কুড়িল মোড় এলাকায় স্থান নির্বাচন করে একটি কমিউনিটি সেন্টার ও খেলার মাঠ নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি কুড়িল লেকে রুই, কাতলা, কালবাউশ ও মৃগেল—চার প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা বি এম মোস্তফা কামাল।

উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসহাক মিয়া, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর হাছিনা বারী চৌধুরী, ডিএনসিসি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন প্রমুখ।