ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা জরুরি: মালালাই আহমাদজাই

বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্ক ও ইউনিসেফ আয়োজিত ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরা। ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মালালাই আহমাদজাই বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা বিশেষ জরুরি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার মহিউদ্দীন আল হেলাল বলেছেন, দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের একটি জাতীয় তালিকা থাকা খুব দরকার।

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তাঁরা এ কথা বলেন। নাগরিক সংগঠন বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্ক ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সহায়তা করে সুইডিশ দূতাবাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, বিএনপি সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে এবং কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, যেকোনো দুর্যোগে উদ্ধার, চিকিৎসা, যোগাযোগ, পুনর্বাসনের মতো সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ) দরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মালালাই আহমাদজাই বলেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা এক বিষয় নয়। ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত থাকা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটির সক্রিয়তা বা সাড়া দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জরুরি পরিস্থিতিতে নজরদারি, সঠিক তথ্য ও সময়মতো পর্যবেক্ষণ দরকার হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্ধারিত আলোচক প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার মহিউদ্দীন আল হেলাল বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৫ সালের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা দরকার ছিল। তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান জরুরি সহায়তা দিলে সেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফান্ডে (জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল) নেই। দারিদ্র্য, প্রতিবন্ধিতা, বয়স ইত্যাদির ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের একটি জাতীয় তালিকা থাকা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক ও বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সভাপতি তাহমিদ মালিক আল–হুসাইনি। তিনি বলেন, আট মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা শহরের ১৪ শতাংশ বা ৪৫ হাজার ভবন পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুর্যোগের আগে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও এনজিওগুলোর ভূমিকা অনেক বড়। দুর্যোগের আগে স্কুলে বা যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং কমিউনিটিতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ থাকা দরকার। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থপতি, প্রকৌশলী, ভূতত্ত্ববিদ ও বিল্ডারদেরও প্রশিক্ষণ দরকার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্কের সভাপতি শামিম হায়দার তালুকদার। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. সফিকুল ইসলাম, বিএনপিসমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব জাহিদুল ইসলাম শাকিল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রেজাউল ইসলাম। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বেননূরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুইডেন দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।