বকেয়া প্রায় ২৪ লাখ টাকা

কাউন্সিলরদের বকেয়া গৃহকরের পরিমাণ ২৩ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৮ টাকা। চলতি অর্থবছর (২০২২-২৩) পর্যন্ত বকেয়া রাখা এই গৃহকরের হিসাব পাওয়া গেছে। এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে গত ১৯টি অর্থবছর পর্যন্ত কোনো কোনো কাউন্সিলর গৃহকর পরিশোধ করেননি।

সর্বোচ্চ বকেয়া রয়েছে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৈমুর রেজার। তিনি রাজধানীর শান্তিনগরের (হাতিরঝিল–সংলগ্ন) মধুবাগ এলাকার ৩৬৮/১ ভবনের (৫ তলা) তৃতীয় তলায় থাকেন। ভবনটি তাঁর মা সখিনা বেগমের নামে। বাড়িটির গত ১৯ বছরের কর বকেয়া রয়েছে, যার পরিমাণ সাড়ে ৮ লাখ টাকা। বক্তব্য জানতে কাউন্সিলর তৈমুর রেজার মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা পাঠিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি।

■ কাউন্সিলরদের বকেয়া গৃহকরের পরিমাণ ২৩ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৮ টাকা।

■ একজন কাউন্সিলরের ১৯ বছরের গৃহকর বকেয়া রয়েছে।

■ অনেকেই দিয়েছেন অসত্য তথ্য।

এর পরেই রয়েছে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেনের নাম। ক-২৩, কালাচাঁদপুর, গুলশানের ঠিকানায় তাঁর বাড়ির গৃহকর ৮ বছর ধরে বকেয়া রয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৭ লাখ ৬ হাজার ৮৬০। ২০১৫ সালে কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকেই তিনি আর গৃহকর দেননি।

জাকির হোসেনের দাবি, গৃহকরের বিষয়টি তাঁর চাচা দেখভাল করেন। তিনি (চাচা) সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মীর কাছে করের টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই কর্মী চাকরিতে থাকা অবস্থায় সেগুলো নথিভুক্ত করেননি। তাই বকেয়া হয়েছিল। এখন পরিশোধ করেছেন বলে জানান।

গৃহকরে অসত্য তথ্য

ডিএনসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু তাহের হলফনামায় ঠিকানা মিরপুরের দারুসসালামের গৈদারটেকের ২১ নম্বর বাড়ি উল্লেখ করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটি পাঁচতলা। অথচ গৃহকরে এটি একতলা দেখানো হয়েছে। আর ওই হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে কর বকেয়া হয়েছে ২ হাজার ৬১৪ টাকা।

কাউন্সিলর পরিবার নিয়ে নিচতলায় থাকেন। দ্বিতীয় তলায় থাকেন তাঁর ছোট ভাই মো. জামান। তিনি অবশ্য বাড়ির হোল্ডিং নম্বর হয়নি বলে দাবি করেন।

আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেওয়া হয়নি, দিয়ে দেব।’ এতে কী সমস্যা হয়েছে বলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান। এ ছাড়া তিনি বর্তমানে যে বাড়িতে থাকছেন, সেটি ২১ নম্বর নয় বলে জানান। তবে বর্তমান বাড়ির হোল্ডিং নম্বর তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

ডিএনসিসির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুরাদ হোসেনের বাড়িও গৃহকরের তথ্যের সঙ্গে মিল নেই। তাঁর বাড়ির কর ধার্য করা আছে ‘সেমিপাকা টিনশেড’ হিসেবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ওই বাড়ির ৩ হাজার ৬৫৬ টাকা কর বকেয়া। তিনিও কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আর কর দেননি। বাস্তবে ওই বাড়ি তিনতলা ভবন। এর ওপরে নতুন আরও দুটি তলা করা হয়েছে। 

থাকেন অন্য বাড়িতে

ডিএনসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তোফাজ্জল হোসেন যে ঠিকানা দিয়েছেন, ওই বাড়িতে তিনি থাকেন না। তাঁর ঠিকানা দেওয়া মিরপুরের রূপনগর আবাসিকের ২০ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি। তবে তিনি থাকেন একই সড়কের ২ নম্বরে বাড়িতে। 

এলাকাবাসী জানান, ওই সড়কে পাশাপাশি তিনটি বাড়ি (২, ৪ ও ৬ নম্বর) কাউন্সিলরের। এর মধ্যে ৪ নম্বরের দোতলা বাড়িটি কাউন্সিলরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যে ৬ নম্বর বাড়িটির ঠিকানা দেওয়া, সেটি টিনের ছাউনির আধা পাকা ঘর। সেটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এর গৃহকর বকেয়া আছে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে, যার পরিমাণ ৯ হাজার ১৪৮ টাকা।

ডিএনসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন হলফনামায় ঠিকানা মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লকের ১৯ নম্বর সড়কের ৫০ নম্বর বাড়ি দেখিয়েছেন। ওই বাড়ি করের তালিকায় আবাসিক দোচালা ঘর দেখানো হয়েছে। সেই হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ওই বাড়ির ৫ হাজার ২২৮ টাকা কর বকেয়া রয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে বাড়ির সামনের অংশে রেফ্রিজারেটর মেরামতের দোকান ও একটি স্টুডিও দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাউন্সিলর সাজ্জাদ থাকেন সি ব্লকের ১৭ নম্বর সড়কের ১৭-১৯ নম্বর বাড়িতে। বাড়িটি কাউন্সিলরের শ্বশুরের।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের সুখ-সুবিধা, স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যতিব্যস্ত। এটা সব ক্ষেত্রেই হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা এসব পদ–পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম অন্যায় কাজে যুক্ত থেকেও পার পেয়ে যান।